রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

গাজায় ইতিহাস মুছে দিচ্ছে যুদ্ধ, ধ্বংস ও লুটে উধাও হাজারো প্রত্নবস্তু


প্রকাশ :

গাজার যুদ্ধ শুধু মানুষের জীবনই কেড়ে নেয়নি, ছিন্নভিন্ন করেছে বহু শতাব্দীর সামষ্টিক ইতিহাসও। হামাসবিরোধী অভিযানের আড়ালে ইসরায়েলের সামরিক হামলায় গাজার প্রত্নস্থল ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার বড় অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এতে প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে ওসমানীয় যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত ২০ হাজারের বেশি বিরল প্রত্নবস্তু হারিয়ে গেছে বা লুট হয়েছে।

সোমবার ১৭ নভেম্বর বার্তাসংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতে জানান, ইসরায়েলি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে প্রত্নস্থলগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছে। তার ভাষায়, এসব হামলা শুধু ধ্বংসযজ্ঞ নয়— ছিল সংগঠিত লুটপাট, যা আন্তর্জাতিক আইনে স্পষ্ট অপরাধ।

সরকারি হিসাবে, গাজা উপত্যকায় মোট ৩১৬টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও ঐতিহাসিক ভবন পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ মামলুক ও ওসমানীয় আমলের, আর বাকিগুলো ইসলামের প্রাথমিক যুগ ও বাইজেন্টাইন সময়কার। হামলার ধাক্কা এড়াতে পারেনি মামলুক আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক প্রাসাদ কাসর আল-বাশাওও।

ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত ওই স্থাপনাটি আটশো খ্রিস্টপূর্বাব্দেরও পুরোনো। পশ্চিম তীরের বেথলেহেমে সেন্টার ফর কালচারাল হেরিটেজ প্রিজারভেশনের বিশেষজ্ঞ হামুদা আল-দাহদার জানান, গাজার পুরোনো শহরের আল-দারাজ এলাকায় অবস্থিত প্রাসাদটির প্রায় ৭০ শতাংশ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হামলার পর সেখানে থাকা হাজারো বিরল প্রত্নবস্তু উধাও হয়ে গেছে, যেগুলো ইতিহাসের অমূল্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।

থাওয়াবতে জানান, স্থানীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত ২০ হাজারের বেশি প্রত্নবস্তু যুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে। তার মতে, এই লুটপাট শুধু ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয়ের ওপর আঘাত নয়— মানবজাতির যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও গুরুতর ক্ষতি।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে গাজা দখলের পর ইসরায়েল ১৯৯৪ সালে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া সর্বশেষ সংঘাতে আবারও ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংস ও প্রত্নবস্তু লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি