রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

ভেস্তে গেল আফগানিস্তান–পাকিস্তান শান্তি আলোচনা: পাল্টাপাল্টি হামলার শঙ্কা


প্রকাশ :

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জানান, আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা আপাতত স্থগিত হয়েছে এবং নতুন কোনো বৈঠকের তারিখ ঠিক হয়নি। জিও নিউজ ও ডন সূত্রে পাওয়া খবর তিনি বলেছেন, আলোচনা এখন অনির্দিষ্টকালীনভাবে থেমে গেছে।

খাজা আসিফ বলেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে প্রাণঘাতী পাল্টাপাল্টি হামলার পরে উত্তেজনা নিরসনে কয়েক দফা সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। তৃতীয় দফার বৈঠক বৃহস্পতিবার ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো লিখিত চুক্তিতে উভয় পক্ষই সই করেনি। ফলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য মতে আফগান প্রতিনিধি দলের কিছু কথা মৌখিকভাবে বলা হলেও তারা লিখিত চুক্তিতে সই করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিক, লিখিত পর্যায়ে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করবে—এটাই সরকারের অবস্থান, জোর দিয়ে বলেন তিনি। আফগানিস্তান কোনো বিষয়ে মৌখিক আশ্বাসে রাজি হলে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত নয়—এমনটাই তার যুক্তি।

খাজা আসিফ মধ্যস্থতাকারী দেশ তুরস্ক ও কাতারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বলেছিলেন, তারা সম্ভাব্য সমাধানে ভূমিকা রেখেছে। তবু মধ্যস্থতাকারীরা শেষ পর্যন্ত আশাহীনতা প্রকাশ করেছেন—মন্ত্রীর ব্যাখ্যা, তাদের তরফ থেকেও সমস্যার স্থিতি সমাধানে ততটা বিশ্বাস আর বজায় নেই।

সাংকেতিক বার্তায় পাকিস্তান জানায়, আলোচনার কোনো ফল না হলে সামনের দিনগুলোতে সীমান্তভিত্তিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে পাকিস্তানের প্রধান দাবি হলো আফগান মাটিকে পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহার করা হবে না—এটি নিশ্চিত করতে হবে।

ইস্তানবুল বৈঠকে আলোচনার বিস্তারিত বিষয় ও কি কারণে লিখিত চুক্তিতে সই হয়নি—এই দিকগুলো সম্পর্কে তিনি কিছুটা আপাতত রুদ্ধকণ্ঠ থাকেন। তিনি বলেন, ‘তাদের (মধ্যস্থতাকারীদের) যদি সামান্য আশাবাদ থেকে থাকত, তারা আমাদের রয়ে যেতে বলত; কিন্তু আমাদের খালি হাতে ফেরার দৃশ্য দেখে তারাও আশা হারিয়ে ফেলেছে।’

এ মুহূর্তে পরিস্থিতি অচলাবস্থায় চলে এসেছে; কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো আপাতত স্থবির। সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানো, গোয়েন্দা সমন্বয় ও মধ্যস্থতাকারী দেশের সাথে আরও আলোচনা—এসবই এখন প্রধান সুরাহার পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে পরবর্তী কদম কী হবে তা নির্ভর করবে কাবুল এবং ইসলামাবাদের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।