রংপুর, ১৪ই আশ্বিন (২৯শে সেপ্টেম্বর):ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)-এর উদ্যোগে ‘মানুষের খাদ্য বৈচিত্রতা এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য ফলিত পুষ্টি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯শে সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে। আমরা যে খাবার খাচ্ছি, তা কখনো কখনো স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাই খাবার গ্রহণের আগে এর নিরাপত্তা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রান্না এবং খাদ্য গ্রহণ—প্রতিটি পর্যায়ের সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরাসরি জড়িত।’ জেলা প্রশাসক বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব এককভাবে কারও নয়। এখানে কৃষক, খাদ্য উৎপাদক, ব্যবসায়ী, খাদ্য পরিবেশক, ভোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধি—সবারই ভূমিকা রয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সঠিক তথ্য এবং বাস্তবসম্মত সহায়তা দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের বারটানের প্রধান কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনও বড়ো চ্যালেঞ্জ। সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, ‘সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে কোন খাবারে কী পুষ্টি উপাদান রয়েছে এবং তা কীভাবে গ্রহণ করতে হবে, সে বিষয়ে মানুষের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা জরুরি। সঠিক তথ্য জানা থাকলেই স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা শিশু ভবিষ্যতে তার মেধা ও সক্ষমতার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে পারে। তাই শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাতৃ ও শিশুপুষ্টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় রংপুরের পীরগঞ্জে বারটানের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. ছাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী শাকসবজি বেশি পরিমাণে খাওয়ার পাশাপাশি তেল কম খেতে হবে এবং খাবার অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে।’ আমিষের উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিম ছোট বা বড় হওয়ার সঙ্গে পুষ্টির পার্থক্য নেই। ডিম খাওয়ার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো সিদ্ধ করে খাওয়া। তিনি জানান, আমাদের প্রতিদিনের খাবারে ভেজালের বিষয়টি চিহ্নিত করা জরুরি। এছাড়াও গুঁড়া মসলায় ভেজালের সুযোগ বেশি থাকায় সম্ভব হলে গোটা মসলা কিনে ব্যবহার করা উচিত। সুস্থ থাকার জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত। কয়েক কেজি ওজন কমবেশি হলে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।
জনগণের সরকারকে হেয়-প্রতিপন্ন করতেএকটি দল কৃত্রিম সারের সংকট তৈরী করেছে ... রংপুরে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী
৩ ঘন্টা আগে
মন্দের চেয়ে মন্দ
১৮ ঘন্টা আগে