সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
☰ সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

নেতাদের চরিত্র ভোটের আগে ও পরে 


প্রকাশ : (৭ ঘন্টা আগে)
নেতাদের চরিত্র ভোটের আগে ও পরে 

ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এলাকার পুরুষ মহিলা ময় মুরুব্বি কৃষক ব্যবসায়ী ইমাম সহ সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় আর ভোট প্রার্থনা করে এর জন্য তারা মানুষের কাছে নিজেকে অমায়িক বিনয় ভদ্র সমাজ সেবক হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা করেন । তাদের এ পরিচয় পর্বে প্রচুর অর্থ সময় ব্যয় হয় তারপরেও তারা তা চালিয়ে যান। কেউ কেউ কোকিল পাখির মত কাকের বাসায় ডিম পেড়ে যাওয়ার জন্যে অন্যের মাহফিলে স্বেচ্ছায় গমন করেন সভাপতির পদ অলংকৃত করেন কিংবা দান অনুদান প্রদান করেন, দাওয়াত না দিলেও দাওয়াত গ্রহণ করে মানুষ বিব্রত করেন বা খুশি করেন। কোন কোনো ক্ষেত্রে পরনে পাঞ্জাবি মাথায় টুপি পরে মসজিদের সামনের কাতারে বসেন, ইমামের আগে বা পরে মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বয়ান করে নিজেকে খাঁটি মুসলিম প্রমানের চেষ্টা করে থাকেন। এতসব কিছু কিন্তু ঠিক ভোটের পুর্বকালিন সময়ের জন্য নির্ধারিত। ভোটের পরবর্তী সময়ে দুই একজন ছাড়া সকল নির্বাচিত ব্যক্তির আচরণ ৩৬০ ডিগ্রি বিপরীত দিকে ঘুরতে থাকে। কিভাবে তা ঘটতে থাকে তার কিছু বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো-
(১) নির্বাচিত হওয়ার পর পরই এলাকায় সুবিধা ভোগি একটি গোষ্ঠী তৈরি হতে থাকে। তারা পঙ্গপালের মত দলে দলে নির্বাচিত নেতাদের বাড়িতে অফিসে গিয়ে নিজেদেরকে তার চামসা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা নিয়মিতভাবে করতে থাকে। এর জন্য তারা নিজেদের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নেতাদের খয়ের খা হতে থাকে। নিজেদের বৈধ কিংবা অবৈধ আয়ের উৎস থেকে নিজেরাই নেতাদেরকে চাদা হিসাবে বা দান হিসেবে টাকা প্রদান করতে থাকে বিনিময়ে নেতারা তাদেরকে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে থাকে। নেতাদের যেহেতু ট‍্যাকস ফাইলে বৈধ কোন আয়ের উৎস থাকে না বা বৈধ সম্পত্তি থাকে না,তাই তারা তাদের অবৈধ আয় সমুহ তাদের বিশ্বস্ত চামসা ব‍্যবসায়ীদের ব‍্যাংক হিসাবে বা বাক্সে জমা রাখে এমনি বিছানার তোষক বালিশের নিচে জমা করে রাখে । যা ৫ই আগস্টে নেতাদের বাড়িতে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে তারা দু ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করে প্রথমত চামসাদের নামে ব‍্যাংক হিসাব খুলে  টাকা জমা রেখে সে হিসাবের চেক বই কিন্তু নিজেরাই সংরক্ষণ করে। দ্বিতীয়ত চামসা ব‍্যবসায়ীদেরকে নগদ অর্থ ব‍্যবসা করার জন্য দিয়ে থাকে বিনিময়ে তাদের চেক নিয়ে থাকে বা চুক্তি করে থাকে । সেক্ষেত্রে চুক্তির কপি ও চেক নেতারা সংরক্ষণ করে থাকে চামসাদের কাছে কোন কপি বা প্রমাণ থাকে না। বিরোধী ব‍্যবসায়ীদেরকে বসিভুত করার জন্য চামসা ব‍্যবসায়ীরাই অন‍্যান‍্য ব‍্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নেতাদের কাছে অভিযোগ বা রিপোর্ট পেশ করে থাকে। ফলে ঐ সমস্ত ব‍্যবসায়ীদের পিছনে নেতারা পাতি নেতা লাগিয়ে দেয়,হয়রানি করে, মামলায় নাম বসিয়ে দেয় ইত্যাদি ইত্যাদির মাধ্যমে তাকে বসিভুত করার চেষ্টা করে। এ সবের মাধ্যমে তারা নির্বাচনের পুর্বের খরচ উঠায় ও নর্ম ভদ্র ব‍্যবহারের প্রতিশোধ জনগণের নিকট থেকে আদায় করে থাকে। এতে পরবর্তী ভোটের জন্য কি খরচ হবে এবং কি রকম ব্যবহার করতে হবে তা বুঝতে পারে না । ফলে পরবর্তীতে তাদের নির্বাচনী খরচ বেড়ে যায়।
(২) জবরদস্তি সভাপতিত্ব করা-ভোটের আগে অতি বিনয়ের সাথে কেউ দাওয়াত দিলে সভার সভাপতি হয় আর নির্বাচনের পর এলাকার মানুষ চাক বা না চাক জোর জবরদস্তি করে হলেও যেকোন ওয়াজ মাহফিল বা অনুষ্ঠান বা মিটিং এর সভাপতির দায়িত্ব তাকে দিতে হবে বা সভাপতির নামের জায়গায় তার নাম ব্যবহার করতে হবে। যদিও তিনি সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। কিন্তু তাদের চামসারা জোর করে হলেও তার নাম লেখাবেন এতে মানুষের মনে যে ঘৃণা সৃষ্টি হয় তা তারা ভোটের আগে বুঝতে পারেন না । 
(৩) চাঁদাবাজি- ভোটের পরে চামসারা নেতাদের লাইসেন্স নিয়ে যে চাঁদাবাজি করান তাঁর প্রতিক্রিয়া সংগে সংগে বুঝা কঠিন। চাঁদাবাজরা কি পরিমাণ চাঁদা ব‍্যবসায়ীদের নিকট থেকে সংগ্রহ করে আর কি পরিমাণ অর্থ নেতার কাছে জমা দেন তা প্রমাণ করা কঠিন। কিন্তু সমস্ত চাঁদার দায়ভার ইহকাল পরকাল উভয় কালেই কিন্তু নেতাকেই বহন করতে হবে। নেতাদের অবৈধ অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তারা অর্থ সংগ্রহ সংরক্ষণের জন্য অন‍্যের দারস্থ হয় যার কারনে সেখানেও ব‍্যাপক অর্থ মিসিউস হয়ে যায়। কোন কারণে ক্ষমতা চলে গেলে বা মৃত্যু হলে সে টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন। অর্থাৎ “বক্ষিলের ধন টিয়ায় খায়”
বিপদের দিনে কোন চামসাও দায় স্বীকার করে না এমনকি পাত্তাও পাওয়া যায় না।
(৪) নেতাদের ব‍্যবসা-যারা রাজনৈতিক দল করে নেতা হয়ে এমপি মন্ত্রী মিনিস্টার হন তারা দু হাতে টাকা আয় করলেও জনগণের জন্য বৈধ কোন ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠান শিল্প কারখানা করতে পারে না। ফলে তাদের আয়ের দ্বারা মানুষের কোন উপকার হয়না না এমনকি তারা বৈধ টাকার যাকাত পর্যন্ত আদায় করতে পারেন না। ক্ষমতা চলে গেলে ঐ টাকা তারা আবার পুলিশ উকিল দেন দরবার আর ঘুষ দিতে শেষ করে ফেলে। এমনকি অবৈধ আয়ের অর্থ সংরক্ষনের মতো বিশ্বস্ত লোক না পেলে দুদকের ভয়ে মাটিতে পুঁতে রাখে এবং সে চিন্তায়/টেনশনে ডায়াবেটিস রোগী হয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে চিকিৎসা করে বেড়ায়। দেশে চিকিৎসা করাতে যেখানে অল্প খরচ হতো বিদেশে গিয়ে কোটিতে খরচ করতে বাধ্য হন। ইহা ছাড়াও ক্ষমতাহীন হলে জেল জুলুমতো থাকবেই। তাদের প্রতি মানুষের সহানুভূতি ভালোবাসা একেবারেই কম। জেলে গেলে বা পালিয়ে থাকলে সেটা উপলব্ধি করা যায়। সময়ের পালায় দিন সবার আসে কেউ আগে কেউ পরে। 
 লেখক: মুহাম্মদ ইয়ার আলী, স্বত্বাধিকারী, আলীবাবা থিম পার্ক।

বিজ্ঞাপন