রাজধানীতে অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অসাম্প্রদায়িক সামাজিক সংগঠন ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ -এর ‘কমিটি গঠন ও পরিচিতি সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টে¤^র ২০২৬) বিকালে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বিএমএ ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলন কনফারেন্স রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির উদ্যোক্তা ও আহ্বায়ক ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা হলেন- সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক বিচারপতি এমদাদুল হক আজাদ, দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। এর আগে গত ৫ সেপ্টে¤^র ২০২৬ সংগঠেনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনের উদ্যোক্তা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সদস্য সচিব নির্বাচিত হন সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন) ক্যাপ্টেন এম. এমদাদুল হক।
এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন- নূরে হক দরবার শরীফের পীরসাহেব এবং আধ্যাত্মিক গবেষক ও লেখক শাহসুফি আল্লামা হানিফ নূরী, বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ এর মিডিয়া সেল প্রধান এস এম সামসুল হুদা, সুফিবাদ সার্বজনীন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহ সুফী তৌহিদুল ইসলাম চিশতি-নিজামী।
যুগ্ম সদস্য সচিব নির্বাচিত হন- বাংলাদেশ সনাতন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, বাংলাদেশ ক্রিশ্চিয়ান মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মেজর বিজয় ম্যানুয়েল ডি প্যারিস, ড. ইমরান হোসেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক জোট এর কার্যকরী সদস্য ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ, সুফিবাদ সার্বজনীন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর মহাসচিব ড. মাওলানা আনিসুর রহমান জাফরী।
অনুষ্ঠানে কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতামত ও আলোচনা হয়। সকলে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক ধর্ম, দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর নয়; বরং এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার নিশ্চিতের জন্য কাজ করাই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। সমাজে চলমান উগ্রতা, সামাজিক অসহিষ্ণুতা, ভিন্নমত দমন, মাজার অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে হামলা এবং বিদ্বেষমূলক আচরণের অবসান ঘটিয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, প্রগতিশীল ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই প্ল্যাটফর্মটি একযোগে কাজ করবে। দেশের যেকোনো প্রান্তে কোনো সাধারণ নাগরিক বৈষম্য বা সহিংসতার শিকার হলে তার পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। সবাই মিলে দেশকে সবার জন্য নিরাপদ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন সকলে।
বক্তারা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। অন্যদিকে জুলাইয়ের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন নিরাপদ সমাজ গড়া। বর্তমান অস্থির সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতি রক্ষার জন্য এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি; অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য, সিনিয়র এডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট ও সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল; সুমন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি), রুফায়দাহ পন্নী, সম্পাদক, দৈনিক দেশেরপত্র; ড. মাওলানা আনিসুর রহমান জাফরী, মহাসচিব, সুফিবাদ সার্বজনীন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ; রিয়াদুল হাসান, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিক; আসমা হোসেন, নারী সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দল; ঈলা ইয়াসমিন, কবি ও ঔপন্যাসিক; মুফতি ফেরদৌস আহমেদ কোরাইশি, পীর সাহেব, মোহাম্মদীয়া দরবার শরীফ; শাহ সুফি আল্লামা হানিফ নূরী, লেখক, গবেষক ও পীর সাহেব নূরীয়া দরবার শরীফ; ইব্রাহিম মোল্লা, সিনিয়র এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট; মেজর বিজয়, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্রিশ্চিয়ান মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ; শাহ সুফি তৌহিদুল ইসলাম চিশতী নিজামী, চেয়ারম্যান, সুফিবাদ সার্বজনীন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ; সুফি আব্দুস সাত্তার ফরাজী, সহকারী মহাসচিব, সুফিবাদ সার্বজনীন ফাউন্ডেশন; আয়েশা সিদ্দিকা, নারী অধিকার কর্মী; তাসলিমা ইসলাম, নারী অধিকার কর্মীসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, প্রবীণ আইনজীবী, শিক্ষক, কবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
নেতাদের চরিত্র ভোটের আগে ও পরে
৭ ঘন্টা আগে