রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

১৯৭১ থেকে ২০২৬: রাজনৈতিক সংকটের কারণ ও উত্তরণের পথ নিয়ে রিপাবলিক সেমিনার


প্রকাশ : (২ ঘন্টা আগে)
১৯৭১ থেকে ২০২৬: রাজনৈতিক সংকটের কারণ ও উত্তরণের পথ নিয়ে রিপাবলিক সেমিনার

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক জনরাষ্ট্র মঞ্চ-বিডিআরপির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ ১৯৭১-২০২৬: কী হলো ভুল এবং কী করতে হবে?’ শীর্ষক রিপাবলিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডিআরপির মুখ্য সম্পাদক মাসুদ রানা।
মূল প্রবন্ধে মাসুদ রানা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পেছনে দুটি প্রধান দ্বন্দ্ব রয়েছে। একটি হলো আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্ব এবং অন্যটি রাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনীতির দ্বন্দ্ব। এসব দ্বন্দ্বের পারস্পরিক প্রভাবে রাষ্ট্রের জন্মকালীন প্রতিশ্রুতি ও তা বাস্তবায়নের মধ্যে সংকট তৈরি হয়েছে। ১৯৭১ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক সংকটকে এসব দ্বন্দ্বেরই উপসর্গ হিসেবে দেখা যায়।
তিনি বলেন, সংকট নিরসনে একাত্তরের রাষ্ট্রবিপ্লব ও বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতির ভিত্তিতে জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরে অভিন্ন পাঠ্যক্রমের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এজন্য রাজনীতিতে পরিবর্তন দরকার। নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা বললেও অনেক দলের ভেতরেই গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। ৫ আগস্টের পরও বিভিন্ন পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, দেশের জাতীয় সংকটের পেছনে অভ্যন্তরীণ দায়ের পাশাপাশি বিদেশি শক্তিরও ভূমিকা রয়েছে। নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের যে আচরণ প্রত্যাশিত, তার পরিবর্তে মবক্রেসিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, গত ৫৫ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করেছে। বামপন্থীদেরও নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিদলীয় রাজনীতির বাইরে নতুন ধারার রাজনীতি ও রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রাম শুধু নয় মাসের লড়াই নয়, এটি দীর্ঘ দুই শত বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিরূপতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ভিন্নমত গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
বিডিআরপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আরিফ রহমান বলেন, সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র সংস্কারে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যা আইনসভার ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে বিডিআরপির সংগঠন সম্পাদক আবুল খায়ের উজির বাবলু বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশকে মৌলবাদী ও পাকিস্তানমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক জনরাষ্ট্র মঞ্চ গঠিত হয়।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসন করে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত রিপাবলিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিডিআরপির ১০ দফা রূপরেখার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

 

বিজ্ঞাপন