রংপুরের শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দৃশ্যমান না হলে কঠোর কর্মসূচী গড়ে তোলার হুশিয়ারী দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থী মুহাফিজ মোস্তফা, মাহমুদুল হাসান মাসুম, হাফিজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে করে অভিযোগ করেন, কারমাইকেল কলেজের উন্নয়নে ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে ৩৭টি দাবী জানায়। এসব দাবীর মধ্যে ১২টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এবং ২৫টি ছিল কারমাইকেল কলেজ কর্তৃপক্ষর আওতাধীন। ওই সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কলেজ প্রশাসন দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এর বছর পেরিয়ে গেলেও কলেজের প্রধান ফটক নির্মাণ, লাইব্রেরী সমৃদ্ধকরণ, একাডেমিক ক্লাস রুম ও আবাসনের উন্নয়ন, খেলাধুলার আয়োজন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ২৫টি দাবী এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, লাইব্রেরী ফি বাবদ প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেয়া হয়। এতে ৫ বছরে ২০ লাখ টাকার বই কেনার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই কেনা হয়নি। কলেজ ম্যাগাজিনের জন্য প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেয়া হলেও কোন ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয় না। দরিদ্র তহবিলে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীরা সেই টাকা পায় না। এমন করে প্রশাসনের নানা অনিয়ম-দূর্নীতিতে ভরে গেছে কারমাইকেল কলেজ।
এ ব্যাপারে কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন মন্ডল বলেন, দাবীর বিষয়ে কোন শিক্ষার্থী আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। আজ তারা সংবাদ সম্মেলন করে যেসব দাবী উপস্থাপন করেছে এর অনেকগুলো অযৌক্তিক এবং কিছু উস্কানীমূলক। কোথাও দূর্নীতি হয়ে থাকলে তথ্য-প্রমাণ দিলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।