সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস কার্যক্রম শুরু হবার কথা। কিন্তু এ নির্দেশনা মানছেন না লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ উপজেলার অধিকাংশ কর্মকর্তাই ক্যাম্পাসে থাকেন না। তাদের বেশীরভাগই রংপুর থেকে অফিস করছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আর এ কারণেই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মকর্তারা অফিস করতে পারছেন না। সকাল ৯ টার অফিসে সাড়ে ৯টায়ও দেখা মিলেনি অধিকাংশ কর্মকর্তার। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।
রবিবার
(১৪ জুন) সরেজমিনে সকাল
৯ টায় আদিতমারী উপজেলা
ক্যাম্পাস গিয়ে দেখা গেছে,
৯ টায় ২৪ মিনিটে
অফিসের তালা খুলছেন সমবায়
অফিসের এক কর্মচারী আর
৯টায় ৪০ মিনিটেও দেখা
মিলেনি সমবায় কর্মকর্তা রিয়াজুল হকের। একই দৃশ্য চোখে
পড়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপির কর্মকর্তা
মোছাঃ শিরিন আক্তারের কক্ষে। তার অফিসের এক
কর্মচারী ৯ টায় ২৭
মিনিটে তার কক্ষের কেবলমাত্র
তালা খুলছেন। এর কিছুক্ষণ পর
৯ টায় ৩৭ মিনিটে
দেখা মিলে ওই কর্মকর্তার।
এসময় তিনি বলেন, জেলায়
থাকি মেয়েদের নিয়ে। তাদের স্কুলে দিতে একটু সময়
লাগে, তাই দেরি হয়েছে।
আনসার
ও ভিডিপি কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশেই আরেক কর্মকর্তা উপজেলা
মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। এ কার্যালয়টি খোলা
থাকলেও ৯টায় ৫০ মিনিটেও
দেখা মিলেনি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের। এসময় অফিসের এক
কর্মচারী জানান, স্যার রংপুর থেকে আসেন তাই
একটু দেরি হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তার মোবাইল বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার
কার্যালয় গিয়ে অফিস কক্ষ
খোলা থাকলেও ৯ টায় ৪৫
মিনিটেও তার
দেখা পাওয়া যায়নি। তবে যুব উন্নয়ন
কর্মকর্তা মোঃ আরিফ আলী
সরকারের সাথে মোবাইল ফোনে
কথা হলে তিনি জানান,
রংপুর থেকে তিনি সরাসরি
লালমনিরহাটে একটি এনজিওর মিটিংএ
গেছেন। তবে সরকারী নির্দেশনা
অনুযায়ী সকাল ৯ টা
থেকে ৯ টায় ৪০
মিনিট পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করার নির্দেশ রয়েছে
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিনিধির
সাথে দুপুরের পর কথা বললেন
বলে ফোন কেটে দেন।
উপজেলা
ক্যাম্পাসের পুরাতন ভবণের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা পরিসংখ্যান
ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এখানে গিয়ে দেখা গেছে,
৯টায় ৩০ মিনিটেও উপজেলা
একাডেমি সুপারভাইজার সিদ্দিকুর রহমান ও উপজেলা পরিসংখ্যান
কর্মকর্তার কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। এর কিছুক্ষণ পর
সংবাদকর্মী আসার খবরে পরিসংখ্যান
কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারী এসে
কক্ষটির তালা খুলছেন। তবে
ওই কর্মকর্তার তখনও দেখা মিলেনি।
আর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন হাতীবান্ধা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সকাল সাড়ে ৯ টায়ও তার দেখা মিলেনি।
অধিকাংশ
কর্মকর্তা সঠিক সময়ে অফিসে
উপস্থিত না থাকার বিষয়ে
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও ভারপ্রাপ্ত ) আজিজা বেগম মোবাইল ফোনে
এ প্রতিনিধিকে বলেন, জেলায় আইনশৃঙ্খলায় মিটিং আছে, তিনি বিষয়টি
গুরুত্বসহকারে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।