লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূ দিলরুবা আক্তার টগরকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে|
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির আট সদস্যের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ দিলরুবা আক্তার টগর (২১)| অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন,স্বামী আরিফুল ইসলাম ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন| বাবার কাছ থেকে ওই টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামীসহ অন্য আসামিরা তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর ও নির্যাতন চালান|
অভিযোক্তা হলেন,আরিফুল ইসলাম (সাবু), ফাতেমা খাতুন (বিউটি), আঞ্জুয়ারা বেগম ও জয়নালসহ মোট ৪জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে| অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে উপজেলার পশ্চিম সারডুবি এলাকার আরিফুল ইসলাম (সাবু)-এর সঙ্গে দিলরুবা আক্তার টগরের বিয়ে হয়| বিয়ের সময় ১৩ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হলেও বিয়ের আগে কনের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে| পরে মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে ৮ লাখ টাকাসহ সোনার জিনিস ও একটি মোটরসাইকেল দেয়া হয়|
বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়| বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় সাত মাস| তবে বিয়ের সময় দাবি করা যৌতুকের অবশিষ্ট ২ লাখ টাকা আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী| বিষয়টি তিনি তার বাবাকে জানালে তিনি অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন| এরপর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে|
ভুক্তভোগীর দাবি,ঐদিন ছিল আমার মেয়ের মুখে ভাত দেয়ার অনুষ্ঠান| কিন্তু আমার স্বামীও তার পরিবার আমার বাবার সামনে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর করেন| এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও জখমের সৃষ্টি হয়| আমার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলেও অভিযুক্তরা কাউকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি| মারধরের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি|