রংপুর গরীতে চোর সন্দেহে এক মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে মারধর ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বুধবার (১৩ মে) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরীর তাজহাট মোড় সংলগ্ন রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। এতে মহাসড়কে প্রায় আধাঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।
অভিযোগ উঠেছে, মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নগরীর জিএল রায় রোডে দর্জিবাড়ি শো-রুমের সামনে চোর সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফেরদৌস হাসানকে উপস্থিত লোকজন এলোপাতাড়ি মারধর ও মানসিক নির্যাতন করে। এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী সংক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন।
চোর অপবাদ দিয়ে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন শিক্ষার্থীকে মারধর করায় মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে অটিজম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় অটিজম বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান বাবু নেতৃত্ব দেন।
অবরোধ চলাকালে তাজহাট পুরাতন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন, পেশ ইমাম মাওলানা রাশিদুল ইসলাম, অটিজম বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুকাদ্দেস সরকার মুকুলসহ স্থানীয়রা বক্তব্য রাখেন। এসময় তারা মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সাথে জড়িতদের সিসিটিভি এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেন বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।
এদিকে, মেট্রোপলিটনতাজহাট থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে আধা ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
অটিজম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় অটিজম বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান বাবু বলেন, একজন প্রতিবন্ধীর সাথে এমন অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া যায় না। যাতে তাতে চোর সন্দেহ হলেই মারধর করার নামে এভাবে মব সৃষ্টি করতে দেয়াটা অন্যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা কমে আসছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মানুষ এখন অন্যায়-অবিচার করার সাহস পাচ্ছে। মানসিক ভারসাম্যহীন ফেরদৌসকে যারা মারধর করেছে, আমরা তাদের বিচার চাই।