বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

সুন্দরবনে দস্যুতার পুনরুত্থান, দুই দিনে ২২ জেলে অপহরণ


প্রকাশ :

সুন্দরবনের পশ্চিমাঞ্চলে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জলদস্যুতা। গত দুই দিনে অন্তত ২২ জন জেলেকে অপহরণের ঘটনায় উপকূলীয় জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে জেলেদের তুলে নিয়ে যায় দস্যু চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলিম ও নানাভাই বাহিনী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

অপহৃত জেলেরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানান, কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে তারা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে যান। এ সময় বিভিন্ন খালে অভিযান চালিয়ে ২৮ থেকে ৩০ জন জেলেকে আটক করে দস্যুরা, যার মধ্যে ২২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জানা গেছে, অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ আনার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের এখনও জিম্মি করে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে মাত্র ১০-১২ মিনিটের নৌপথ দূরত্বে এমন ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জিম্মিদের স্বজনরা জানান, এখনো মুক্তিপণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে দস্যুরা মোবাইল নেটওয়ার্ক এলাকায় এসে যোগাযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি ও মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে চরম ভীতি বিরাজ করছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি।

বারবার অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত যৌথ অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার এবং দস্যুদের দমন করতে হবে।