বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

মোটরসাইকেল বিরোধে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যা


প্রকাশ :

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রবিউল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৬ মে) দুপুরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত রবিউল ইসলাম মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাক্টরচালক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে বোয়ালমারীর হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুল শেখ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সাইদ মোল্লার মেয়ে সাদিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য কলহের জেরে সম্প্রতি সাদিয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। এর মধ্যে শহিদুল শ্যালকের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এনে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রাখেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে মোটরসাইকেল ফেরত নিতে শ্বশুর সাইদ মোল্লা প্রতিবেশী রবিউল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে শহিদুলের বাড়িতে যান। মোটরসাইকেল না পেয়ে তারা ফিরে আসেন। পরে বিকেলে মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে শহিদুল পুনরায় তাদের ডেকে নেন। একপর্যায়ে শ্বশুরকে বাড়িতে বসিয়ে রেখে রবিউলকে বাইরে নিয়ে যান তিনি। এরপর থেকেই রবিউল নিখোঁজ ছিলেন।

রাত ৯টার দিকে সাতৈর-মহম্মদপুর সড়কের বটতলা এলাকায় স্থানীয়রা রবিউলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শহিদুল শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন; তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।