বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)'র সভাপতি এম. এ. আলীম সরকার এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ড. ইউনুস জাতীয় নির্বাচনের তিন দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কিছু গোপন চুক্তি করেছেন।
এ বিষয়ে জনমনে সন্দেহ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একটি অনির্বাচিত সরকার জনগণকে না জানিয়ে কখনো কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে পারে না। ড. ইউনুসের দেশের এই স্বার্থবিরোধী গোপন চুক্তি সম্পর্কে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি অবগত ছিল। বর্তমান সরকার তারই ধারাবাহিকতায় এসব চুক্তির বিষয়বস্তু, শর্তাবলি এবং সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত জনগণের সামনে সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করছে না।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে সম্পাদিত যেকোনো চুক্তি অবশ্যই দেশের জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্পাদিত হওয়া উচিত। কিন্তু যদি কোনো চুক্তি গোপনে সম্পাদিত হয় এবং তা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তবে তা জাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। আমরা এই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সকল চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। সংসদে আলোচনা ও অনুমোদন ব্যতীত কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর করা যাবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে এমন যেকোনো গোপন চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
এম. এ. আলীম সরকার আরও বলেন, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে এবং দেশের স্বার্থবিরোধী গোপন চুক্তি করার জন্য ইউনুসের বিচার করতে হবে।
আমরা মনে করি, জনগণের অজান্তে গৃহীত সিদ্ধান্ত কখনোই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারে না। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি দেশবাসীকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি