রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ মিডিয়া. দুদক সহ বিভিন্ন স্থানে নথি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় বাংলা বিভাগের শিক্ষক আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান ওরফে ড. তুহিন ওয়াদুদ, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মোঃইউসুফ এবং গণিত বিভাগের শিক্ষক আইরিন বেগমের বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সদস্য ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে আহবায়ক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রহমান ও রেজিস্ট্রারকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তারা পুরো বিষয়টি তথ্যানুসন্ধান করবেন। এরপর তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের গেজেট অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও ড. ওয়াজেদ রিসার্স সেন্টারে অনিয়ম, বাস বিক্রিসসহ বিভিন্ন অনিয়মের জন্য পৃথক পৃথক কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।বিষয়টি ব্রিফিংয়ে ভিসি ড. শওকাত আলী নিশ্চিত করেছেন।
রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ক্যাম্পাসকে কলংকমুক্ত করার সকল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটসহ সকল কমিটি পুর্নগঠিত করা হবে। এছাড়াও একাডেমিক, প্রশাসনিক গবেষনা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের স্পিরিটের আলোকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ছাত্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লেজুর ভিত্তির রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও হল ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছাত্র শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নামে মামলা ও অনুপস্থিত শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও আলোচিত শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ, মোহাম্মদ ইউসুফ ও আইরিন বেগমের নিয়োগ জালিয়াতি খতিয়ে দেখতে হয়েছে কমিটি।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যলয়ের ১০৮ নম্বর সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।বেলা ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সিন্ডিকেট কক্ষে সভা চলে। এতে ১০ সদস্যের মধ্যে আটজন উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ভিসি জানান, ক্যাম্পাসের সকল অংশীজনের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের কথা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রদের নৈতিক ও একাডেমিক তত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হলের সিট বাণিজ্য, হল দখলকারি লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি বন্ধ থাকবে।
এ ব্যপারে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া গেজেটের ৪-এর (গ) অনুযায়ী কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না উল্লেখ আছে। এত দিন কেন হলো সেটা আমরা খুঁজবো। এখনো যদি কেউ থাকেন, সেটাও আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।আজকের সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে ছাত্র ও হল সংসদ নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিভাবে সেটা করা যায়, সেজন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ফেরদৌস রহমানকে আহবায়ক এবং ছাত্র উপদেষ্টা ইলিয়াস প্রামানিককে সদস্য সচিব করে তিনটি হলের প্রক্টরকে সদস্য করা হয়েছে কমিটিতে।তাদের প্রতিবেদনের আলোকে নির্বাচন হবে।আশা করি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি দাওয়া এবং সুষ্ঠুধারার রাজনৈতিক চর্চা সেখানে করতে পারবেন।