এই নিয়মাবলী মূলত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিভিন্ন পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন দ্বারা পরিচালিত হয়।
এখানে মূল সরকারি নিয়মাবলীর একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
১. রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের নির্দেশনা:
গার্ড অব অনার: সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান বাধ্যতামূলক।
পতাকা আচ্ছাদন: মুক্তিযোদ্ধার কফিন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দ্বারা আচ্ছাদিত করা হবে। পতাকার লাল অংশ মাথার দিকে এবং সবুজ অংশ পায়ের দিকে থাকবে।
২. কারা গার্ড অব অনার প্রদান করবেন:
পুলিশ: জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) অথবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং উপজেলা পর্যায়ে সার্কেল এএসপি অথবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করবে।
আনসার: প্রয়োজনে আনসার বাহিনীকেও গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
সশস্ত্র বাহিনী: যদি সামরিক বাহিনীর কোনো মুক্তিযোদ্ধা হন অথবা বিশেষ পরিস্থিতি হয়, তবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও গার্ড অব অনার প্রদান করতে পারেন।
৩. রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ও তাদের ভূমিকা:
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)/জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর প্রতিনিধি: মৃত মুক্তিযোদ্ধার জানাজা/শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে একজন সরকারি কর্মকর্তা (সাধারণত ইউএনও বা তার মনোনীত একজন কর্মকর্তা) সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং গার্ড অব অনার তত্ত্বাবধান করবেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ: স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা এবং সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সম্মান জানাবেন।
৪. গার্ড অব অনার প্রক্রিয়া:
দল গঠন: গার্ড অব অনার প্রদানকারী দলে সাধারণত ১২-১৫ জন সদস্য থাকেন।
বিউগলে করুণ সুর: গার্ড অব অনার প্রদানের সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
শূন্যে গুলি বর্ষণ: সম্মান জানানোর প্রতীক হিসেবে তিনবার শূন্যে গুলি বর্ষণ করা হয়।
শ্রদ্ধাজ্ঞাপন: সরকারি প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
৫. জাতীয় পতাকা হস্তান্তর:
গার্ড অব অনার প্রদানের পর এবং দাফন/সৎকারের আগে, কফিনের উপর থেকে জাতীয় পতাকাটি সসম্মানে ভাঁজ করে মৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যের (সাধারণত স্ত্রী অথবা বড় সন্তান) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই কাজটি সরকারি প্রতিনিধি (ইউএনও/ডিসির প্রতিনিধি) বা গার্ড কমান্ডার কর্তৃক সম্পন্ন হয়।
৬. দাফন/সৎকার:
দাফন: মৃত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। সাধারণত স্থানীয় সরকারি কবরস্থানে বা পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সৎকার: হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মুক্তিযোদ্ধাগণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী সৎকার বা সমাহিত করা হয়, তবে এর পূর্বে বা সময় গার্ড অব অনার ও পতাকা আচ্ছাদনের প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়।
৭. আনুষ্ঠানিকতার সময়:
দিবাগত রাতে কোনো মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হলে, সূর্যোদয়ের পর সকালে যথাসময়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
কোনো মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ যদি অন্য জেলা থেকে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৮. উৎসর্গকারী বা অবদান রাখা বীর সন্তানদের প্রতি জাতি তার সর্বোচ্চ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করছে।
মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটি পরিচালনা কমিটি, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম।