সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

হাতীবান্ধায় সারের জন্য কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চাহিদামতো সার না পেয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা।

রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার অডিটরিয়াম চত্বর এলাকা, মোর্শেদ সার ঘরের সামনে, চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার হাতীবান্ধা ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’ থেকে সার বিক্রি করা হয়। কয়েক দিন ধরে কৃষকেরা সার পাচ্ছিলেন না। ওই বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছিল আজ সকালে সার বিক্রি করা হবে। এ জন্য উপজেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকেরা সকালেই সেখানে যান। কিন্তু কয়েকজন কৃষককে তাদের চাহিদামতো সার না দিয়ে বিক্রয়কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক বর্মনের সহযোগিতায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করা হয়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে কৃষকেরা বিক্ষোভ দেখান। পরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কৃষকদের অভিযোগ, তাঁরা সকালে সার নিতে এসে জানতে পারেন, চাহিদামতো সার দেওয়া হবে না। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক ও ডিলার খুচরা দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি শুরু করলে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

আ: রহিম এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম তাঁর দুই বিঘা জমি আবাদের জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে তিনি সারের জন্য ঘোরাঘুরি করছেন। জানতে পারেন আজ সকালে সার দেওয়া হবে। সকালেই তিনি বিক্রয়কেন্দ্রে যান। কিন্তু চাহিদামতো সার না থাকায় অনেক কৃষকই সার পাননি। তারা চুপিসাড়ে দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি করেন।

কসমত আলী বলেন, ‘খেতের জন্য এখন সার দরকার, কিন্তু কোথাও সার পাচ্ছি না। দুই-এক দিনের মধ্যে সার না দিলে ভুট্টা লাগাতে পারবো না। আমার মতো বেশিরভাগ কৃষকই সার পাচ্ছে না।’

মেসার্স মোর্শেদ সার ঘরের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর মোর্শেদকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা বলেন, ‘কত বস্তা গেছে আর কতটুকু মজুদ রয়েছে, হিসাব করব। যদি অনিয়ম থাকে, তাহলে ডিলার পয়েন্ট বাতিল করা হবে।’