রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ১০


প্রকাশ :

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে গড়ায়। এতে অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) মাগরিবের সময় দেউলভোগ দয়হাটা এলাকায় বায়তুল আমান জামে মসজিদে এবং আশপাশে।

আহতদের মধ্যে আছেন—আব্দুর রহিম (৪৮), আক্তার হোসেন (৪৫), তরিকুল ইসলাম (৪০) এবং মমিনুল ইসলাম ফাহিম (২২)। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তরিকুল ইসলামের বোন রুবিনা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

শ্রীনগর থানার ওসি কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আওলাদ হোসেন উজ্জ্বলের শ্বশুর, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিক খানের জানাজায় যোগ দিতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মসজিদে যান। জানাজার আগে মসজিদের পাশে তরিকুল ইসলামের মোটরসাইকেলে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ আব্দুল্লাহর ছবিযুক্ত স্টিকার দেখে সরাফত আলী সপু পক্ষের এক কর্মী নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তরিকুলও পাল্টা মন্তব্য করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশ রুবিনা আক্তারকে আটক করে।

মীর সরাফত আলী সপু অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হামলা। তার ভাষায়, তিনি নামাজে ছিলেন, হঠাৎ খবর পান তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা মসজিদের ভেতরেও ঢুকে অস্ত্রের মুখে অতর্কিত আঘাত চালায়। তিনি প্রশাসনের কাছে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেন এবং শনিবার সকাল ১০টায় প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা দেন।

অন্যদিকে, মনোনয়নপ্রত্যাশী আলহাজ মমিন আলী জানান, তরিকুল মূলত বিএনপির খসড়া মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ। আগেও তাকে পুলিশ আটক করেছিল বলে জানান তিনি।

শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু নেতা দলীয় নির্দেশনা মানছেন না। তারা উত্তেজনাকর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভাজন তৈরি করছেন। তার দাবি, জানাজাস্থলে সপু পক্ষের লোকজন সংখ্যায় বেশি ছিল এবং তারাই তরিকুলকে মারধর করে। পরে তরিকুলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে তারাও মারধরের শিকার হন। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সঠিক তদন্তের দাবি জানান।

শ্রীনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা খান বলেন, ঘটনায় একজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, তরিকুলের মোটরসাইকেলের নির্বাচনি স্টিকারকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটিই সংঘর্ষের সূচনা। তরিকুল পক্ষের দাবি, তাদের ওপরই হামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হত্যা চেষ্টা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছিল। এরপর কয়েক শ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী থানা ঘেরাও করে তাকে ছিনিয়ে নেয়। সেই ঘটনায় মামলাও হয় এবং ওসি কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরীকে সেদিনই প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন ১১ জানুয়ারি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তরিকুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।