রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

আমি একজন সেবক হয়ে কাজ করতে চাই — দুলু


প্রকাশ :

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, আমি একজন সেবক হয়ে কাজ করতে চাই। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ছাত্রজীবনে ১৯৮৬ সাল থেকে রাজনীতি করে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় এখনও আপনাদের সেবায় নিয়োজিত আছি। এখন সেই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়াবাড়ী শহীদ আবুল কাশেম হাইস্কুল মাঠে বড়াবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বড়াবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সভাপতি নুর ইসলাম নুরু’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি লাইলা হাবীব। বড়াবাড়ী শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও জেলা বিএনপির সহযুগ্ম সম্পাদক এবি এম ফারুক সিদ্দিকীর পরিচালনায় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল হামিদ বাবু, অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন সরকার, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আফজাল হোসেন এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াছিন মোল্লা।

তিনি বলেন, আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতায় ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে একটি ছোট্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই অনুগ্রহে এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। প্রায় ৩৯ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। এ পথচলায় অনেক সাথী-বন্ধু এলাকা থেকে হারিয়ে গেছেন। যারা বয়সে প্রবীণ ছিলেন, অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের ছেলেরা এখন আমার সঙ্গে রাজনীতি করে। আমি যখন গ্রামে যাই, শিশুকে কোলে নিয়ে কেউ আমাকে দেখিয়ে বলে ‘দুলুভাই’, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা। এমপি হবো কি না বা আরও বড় জায়গায় যাবো কি না—সেটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে আপনারা আমাকে গ্রহণ করেছেন—এটাই আমার বড় পাওয়া।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের আমলে দেশের এমন কোনো নেতা নেই যাদের নামে মামলা হয়নি বা যারা শান্তিতে থাকতে পেরেছেন। অনেক নেতাকর্মী খুন-গুম হয়েছেন। লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। তারা বাড়িতে থাকতে পারেনি, ঘুমাতে পারেনি, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। আমাকেও এসব মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছিল। আপনাদের আন্দোলন ও প্রতিরোধের কারণে সেটি সফল হয়নি। যার ফলে আজ লালমনিরহাটকে বাংলাদেশ চেনে।

গত ১৭ বছর এই জালিম সরকারের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন করেছেন। এলাকার লোকেরা বলত হাসিনার পতন হবে না। আমি তাদের সাহস দিতাম। বলতাম, যুগে যুগে নমরুদ-ফেরাউনসহ স্বৈরাচাররা ধ্বংস হয়েছে। হিটলার ধ্বংস হয়েছে। শেখ হাসিনারাও ধ্বংস হবে। অনেকে বিশ্বাস করেনি। আল্লাহ আমার কথাটা কবুল করেছেন। আজ দেখুন, সেই স্বৈরাচার হাসিনার পতন হয়েছে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে এই জেলায় কোনো উন্নয়ন হয়নি—যোগাযোগ হয়নি, বিমানবন্দর চালু হয়নি, শিল্পকারখানা হয়নি। ফলে এই অঞ্চলের মানুষ চাকরির খোঁজে ঢাকায়, গাজীপুরে, নারায়ণগঞ্জে কষ্ট করে কাজ করতে গেছে।

দুলু বলেন, কর্মহীন মানুষ কর্মের অভাবে দিনে দিনে মারা যাচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের শিল্পকারখানা করতে হবে। এখানে যদি শিল্পকারখানা হতো, মানুষের এমন কষ্ট হতো না। তাই নতুন করে শিল্পকারখানা, হাসপাতাল গড়তে হবে—এলাকাকে আধুনিক করতে হবে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে, যেন তারা শান্তিতে ডাল-ভাত খেয়ে ঘুমাতে পারে। আমরা ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করতে চাই না। সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে থাকতে চাই। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় বড় বড় সরকারি চাকরির প্রতিযোগিতায় আমাদের সন্তান-সন্তানাদি টিকতে পারে না—এর উন্নয়ন জরুরি।

তিনি বলেন, জানি না কতটুকু করতে পারব। ২০০১ সালে আপনাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিচিতি বেড়েছে। আগামী দিনের নেতা জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আছে—এ কারণেই আমি আশাবাদী। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছি। রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার দুই কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে ইনশাল্লাহ। আন্দোলনের ডাক এলেই সবাইকে থাকতে হবে। আপনাদের যে ভালোবাসা পেয়েছি—তার প্রতিদান কোনো কিছুর বিনিময়ে পাওয়া যায় না। আগামী নির্বাচনে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দেবেন ধানের শীষে ভোট দিয়ে।

তিনি বলেন, অন্য মার্কাগুলোর কোনো খবর নেই। লাঙ্গল ভেস্তে গেছে—মানুষ এখন পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ব্যবহার করে। নৌকা তলা ফেটে ডুবে গেছে—মানুষ নৌকা নয়, লঞ্চ-স্টিমার ব্যবহার করে। আর ধানের শীষ মানুষের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে আছে—এ দেশের কোটি মানুষের জনপ্রিয় প্রতীক। গত নির্বাচন নানা ষড়যন্ত্রে আমরা জিততে পারিনি। এবার হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। সবাই আনন্দের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, প্রতিবেশীকেও সঙ্গে নেবেন, বিপুল ভোটে আমাকে জয়ী করবেন। আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই, এলাকা আলোকিত করব। যদি আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো না হতো, লালমনিরহাটের চেহারা বদলে যেত।

পরিশেষে তিনি বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর লালমনিরহাটে বিশাল শোডাউন করা হবে—যা দেখতে চাই, সেই রেকর্ড যেন কেউ ভাঙতে না পারে।