আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা বলেছেন, নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুবিধা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনকে শক্তিশালী করা ছাড়া উপায় নেই। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করা, কিন্তু বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা সেই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ ২৫ নভেম্বর, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)–এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজন করে “নারী অধিকার সুরক্ষায় শক্তিশালী নিবন্ধন আইন” শীর্ষক এই ওয়েবিনার। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।
বক্তারা তুলে ধরেন, জন্ম নিবন্ধনের অভাবে মেয়েদের প্রকৃত বয়স প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা বাল্যবিবাহকে আরও সহজ করে তোলে। এতে বাড়ে শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার ঝুঁকি। অপ্রাপ্তবয়স্ক মায়েদের মাতৃস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও মাতৃমৃত্যুর হারও তুলনামূলক বেশি থাকে। শুধু তাই নয়, নিবন্ধনহীনতা নারী পাচার ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় জড়িয়ে পড়ার পথও প্রশস্ত করে। বাংলাদেশের সম্পত্তিহীন নারীদের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধনের হার খুব কম—এটিও আলোচনায় আসে।
বক্তাদের মতে, হাসপাতালে ঘটে যাওয়া জন্ম ও মৃত্যুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আনতে আইন সংশোধন করে পরিবারের বদলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে হবে। এখন দেশের জন্ম নিবন্ধনের হার ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৪৭ শতাংশ–যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক কম।
ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী। তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নারীদের “অদৃশ্য” করে তোলে। প্রতিটি নারীর পরিচয় ও অধিকার রক্ষায় ২০০৪ সালের আইন সংশোধন জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা জানান, রাষ্ট্র ও ব্যক্তিজীবনে নারীর মর্যাদা এবং অধিকার সুরক্ষার জন্য সব নারীর জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, হাসপাতালে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে প্রত্যেক নারীকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা—বিশেষ করে এসডিজি ১৬.৯, অর্থাৎ সবার জন্য বৈধ পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য—আরও দ্রুত অগ্রসর হবে।
ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স–আত্মার কো–কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার রাবেয়া বেবী। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, আর সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।