রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতা কর্তৃক জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কের পিঠের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি! মামলা দায়ের


প্রকাশ :

টাঙ্গাইল জেলার বিএনপি নেতা ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান মোবাইলের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ টাঙ্গাইল জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল খালেক মন্ডল (৭৬)-কে পিঠের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক আজ ২৫ নভেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইল আমলী আদালতে উক্ত বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ৫০০ ও ৫০১ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই সঙ্গে দশ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডিবি পুলিশ টাঙ্গাইলকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, পিঠের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি এবং তার সঙ্গে কথা না বলে তার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কোনো কমিটি গঠন করা যাবে না—এমন কথাও বলা হয়। এতে নাকি তার নির্বাচনে ক্ষতি হবে। তিনি এটা মেনে নেবেন না। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইনে ভিডিও–অডিওসহ ভাইরাল হয়েছে।

গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ৩টা ৩৯ মিনিটে বিএনপি নেতা আহমেদ আজম খান তার মোবাইল নম্বর (০১৮৮৩৯২৪৫৩৯) ব্যবহার করে টাঙ্গাইল ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ককে হুমকি দেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কর্তৃক অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে তা উল্লেখ রয়েছে। বিগত ৫৪ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলগুলো অবৈধভাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে হস্তক্ষেপ করেছে। রাজনৈতিক দলের নেতারা, তাদের ক্যাডার, আত্মীয়–স্বজন এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি করেছে। এ সব অমুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎই করে চলছে।

৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, জামুকা ও শীর্ষস্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচেষ্টায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। জেলা ইউনিট কমান্ড উপজেলা ইউনিট কমান্ড গঠন করে।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে মন্ত্রণালয় কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক এবং উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও তিনজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক এবং উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়কদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন না। দায়িত্ব হস্তান্তরের পাশাপাশি কমপ্লেক্স ভবনের চাবি বুঝিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ ছিল। উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে তৈরি হওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কয়েকজন সদস্য এখনো অফিসগুলো দখলে রেখেছে।

জেলা ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, গেরিলা লিডার ’৭১, জেলা প্রশাসক লালমনিরহাটকে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য পরপর তিনটি চিঠি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কের কোনো চিঠির উত্তর দেননি। দুই মাসের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও উপজেলা কমান্ডের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্যের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জেলা ও উপজেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়কেরা।