রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রেকর্ডডাকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে অতিথি পাখি, আইন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ


প্রকাশ :

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে খুলনার দাকোপ উপজেলার খাল, বিল ও ঝিলগুলোতে অতিথি পাখির সমাগম বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না শিকার নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় অসাধু শিকারীরা মোবাইলে রেকর্ড করা পাখির ডাক, আলো, ফাঁদ ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে অতিথি পাখি নির্বিচারে শিকার করছে। এরপর এসব পাখি অগ্রিম অর্ডার নেওয়া ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতিথি পাখি রক্ষার আইন মাঠ পর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে না। প্রতি বছরের মতো এ বছরও নভেম্বরের শুরু থেকেই বিভিন্ন খাল-বিলে পাখি আসতে শুরু করেছে। তবে এই সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিচ্ছে শিকারীদের কার্যক্রম।

শিকারীরা মোবাইলে রেকর্ড করা ডাক বা বাঁশির নকল সুর ব্যবহার করে পাখিকে ফাঁদে ফেলে। এছাড়া নাইলনের ফাঁদ, কারেট জাল, কেঁচো বা অন্যান্য প্রলুব্ধক ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এসব পাখি ২৫০–৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, কেউ কেউ শিকারীদের ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ও করছে।

প্রাণীবিদরা বলেন, শীতকাল থেকে বাঁচতে হিমালয়, সাইবেরিয়া ও অন্যান্য শীতপ্রধান দেশ থেকে এখানে অতিথি পাখি আসে। বালি হাঁস, জলপিপি, কোম্বডাক, সরালী, কাস্তে চাড়া, পাতাড়ি হাঁস, কাদা খোচা, হুরহুর, খয়রা, সোনা রিজিয়াসহ বহু প্রজাতির পাখি দেখা যায়। কিন্তু ১৯৮০-এর দশকে দেশে প্রায় ৩০০ প্রজাতির অতিথি পাখি দেখা গেলেও বর্তমানে তা কমে ৬০–৭০ প্রজাতিতে নেমেছে।

শিকারীরা স্বীকার করেছেন, ধানক্ষেতে বসে মোবাইলে রেকর্ড করা ডাক বা বাঁশির সুর ব্যবহার করে পাখি ফাঁদে ফেলে এবং অর্ডারকৃত ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে।

খুলনা অঞ্চলের বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানিয়েছেন, অতিথি পাখি শিকার রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিকার বা বিক্রির খবর পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (সূত্র: ইত্তেফাক)