রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগে কোটা বৈষম্য এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলায় হরতাল চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সড়ক ও নৌ—দু’পথেই হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা। জরুরি সেবার যানবাহন আগের মতোই চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে।
এই কর্মসূচির ডাক আসে বুধবার বিকেলে বনরূপায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে। ‘কোটাবিরোধী ঐক্যজোট, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত সেই আলোচনায় জেলা পরিষদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোটা উল্লেখ না করা, শূন্যপদের সংখ্যা অস্পষ্ট রাখা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ না করার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
হরতালকে সমর্থন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ। সমর্থন জানানোর পর বুধবার সন্ধ্যায় শহরে মিছিল ও সমাবেশও হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে হরতাল শুরুর পরই রাঙ্গামাটি শহর ছাড়াও বাঘাইছড়ি, লংগদুসহ বিভিন্ন উপজেলায় পিকেটিং দেখা যায়।
হরতালের কারণে সকাল থেকেই রাঙ্গামাটির সব সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ। রাঙ্গামাটি থেকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রামমুখী কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। নৌপথেও লঞ্চ ও বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের ভেতরের সিএনজি অটোরিকশাও রাস্তায় নামেনি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারিতে আছে।
গত বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন তুলে ধরে স্থানীয়রা ৭ শতাংশ কোটা রেখে বাকি ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার জানিয়েছেন, পরিষদ তাদের নিজস্ব আইনে পরিচালিত হয়, কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে নয়। তার এই বক্তব্যের পরই এলাকাজুড়ে ক্ষোভ আরও বাড়ে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং কোটা অস্পষ্টতার কারণেই মানুষ প্রতিবাদে নেমেছে। তাদের দাবি, পরিষদকে দ্রুত সংশোধিত, স্বচ্ছ এবং ন্যায়সংগত নিয়োগ কাঠামো প্রকাশ করতে হবে। সেই দাবির চাপ তৈরির অংশ হিসেবেই হরতালসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।