সম্প্রতি সরকারের নেওয়া সেন্টমার্টিন বিষয়ক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং পার্বত্য অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি জানিয়েছে পর্যটন শিল্পের বাণিজ্য সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। একইসঙ্গে ট্যুর অপারেটর সেবার ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড আইনের বিধিমালায় উল্লেখিত জামানত বাতিল ও বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর করার দাবিও জানায় সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টোয়াবের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন ও পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নভেম্বরে সেন্টমার্টিনে কোনও পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন এবং রাত্রিযাপন করতে পারবেন। ফেব্রুয়ারিতে সেন্টমার্টিনে সরকার পর্যটক যাতায়াত বন্ধ রাখবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য। এতে পর্যটন শিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং সাধারণ উদ্যোক্তারা সর্বশান্ত হয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস করে। তারা সবাই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। সেন্টমার্টিনে পর্যটন বন্ধ হলে তারা সবাই বেকার হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের আর্থিক বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে পড়বে। পার্বত্য অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞার কারণেও পর্যটন এবং উদ্যোক্তারা ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে টোয়াবের পক্ষ থেকে সেন্ট মার্টিনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ করে রাত্রি যাপনসহ পর্যটন চালু রাখা, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে বিকল্প পথ তৈরি, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) লাইসেন্স ও নবায়ন ফি ও ব্যাংক স্থিতি কমানো ও জামানত বাতিল, ট্যুর অপারেটর সেবার ওপর মূসক প্রত্যাহার, বছরব্যাপী সুন্দরবনে পর্যটকবহী জাহাজ চলাচল চালু রাখা, পার্বত্য অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর ও পর্যটকদের জন্য পারমিশন গ্রহণ সহজ করার দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে টোয়াবসহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।