রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

আদিতমারীতে জমি বিরোধে হামলা-ভাঙচুর, আহত ২


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৮ নভেম্বর) রাত ৩টার দিকে উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী দারোগাবাজার এলাকায় মৃত ফরমান আলীর ছেলে আব্দুস সামাদের (৫০) বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।

হামলায় সামাদের বৃদ্ধা মা জয়গুন বেওয়া (৭০) ও বোন ময়না খাতুন (৫০) গুরুতর আহত হয়ে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ ঘটনায় আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে একই এলাকার রফিকুল ইসলাম (৬৫)সহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাদ ও রফিকুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। সামাদের বাবার রেখে যাওয়া জমি রফিকুল ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে দলিল করে দখলে রাখেন। পরবর্তীতে সামাদ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে আদালতে মামলা করেন (মোকদ্দমা নং-৬৫/২০২২)। আদালত গত ৩০ জুলাই রায় দিয়ে সামাদকে জমির দখল ও ডিগ্রি প্রদান করেন।

এই রায়ের জের ধরে শনিবার গভীর রাতে রফিকুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সামাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা চারটি টিনের ঘর ভেঙে ফেলে এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্র, দুটি খাসি, স্বর্ণালংকার ও নগদ এক লাখ টাকাসহ প্রায় সাত লাখ ৪৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় বাধা দিতে গেলে সামাদের মা ও বোনকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়।

হামলার শিকার আব্দুস সামাদ জানান, “আদালতের রায় পাওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিল। শনিবার রাত ৩টার দিকে তারা অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে হামলা চালিয়ে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।”

সামাদের ছেলে সাদিকুল বলেন, “বাড়িঘর ভেঙে সব কিছু নিয়ে যাওয়ার পরও প্রতিপক্ষরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এখন পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

স্থানীয়রা জানান, রাতে ভাঙচুরের শব্দে অনেকে ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে তাড়া করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এ হামলার দৃশ্য যেন সিনেমাকেও হার মানায়। সামাদের পরিবার এখন ভীষণ আতঙ্কে আছে।

এ ঘটনার পর থেকে মূল আসামি রফিকুল ইসলাম পলাতক। তার স্ত্রী মিলন বেগম সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তার স্বামীর নেতৃত্বেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আকবর বলেন, “ঘটনার পর থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”