সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয়বারের মতো তিন দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনে নামলেও পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হন এবং পদযাত্রা বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষক নেতা শামসুদ্দিন মাসুদ জানিয়েছেন, আহত শিক্ষকদের সংখ্যা শতাধিক।
এর আগে সকাল ৯টা থেকে দেশব্যাপী শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
শিক্ষকরা বলেন, দেশের অন্যান্য সরকারি পদে সমমানের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন—যেমন পুলিশ, নার্স, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা। কিন্তু সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী প্রাথমিক শিক্ষকরা এখনও ১১তম গ্রেডে রয়েছেন।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শিক্ষক ইয়াছিন মিয়া বলেন, “সরকারি গাড়িচালকরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, অথচ শিক্ষকেরা ১৩তম গ্রেডে। শিক্ষকদের এই অবমূল্যায়ন অগ্রহণযোগ্য।”
শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, বহুবার দাবি জানালেও সরকারের আশ্বাস বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। গত ৭ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রস্তাব পাঠালেও তা পে-কমিশনে পাঠানো হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শিক্ষক নেতারা পে-কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কমিশন জানায়, গ্রেড পরিবর্তনের এখতিয়ার তাদের নয়, এটি সার্ভিস কমিশনের বিষয়।
শিক্ষকরা পুনরায় দশম গ্রেডে উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) ও সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তৃতীয় ধাপে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও এতে যোগ দেবেন।
তাদের তিন দফা দাবি হলো:
১. ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ
২. ১০ ও ১৬ বছরের পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের সমস্যা সমাধান
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন