রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

প্রবীনদের কল্যাণে তহবিল সংগ্রহ ও প্রকল্প প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা


প্রকাশ :

ইংল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা হেলএইজ এবং বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের আয়োজনে গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ওম্যান হেলথ সেন্টারে(বি ডাব্লুিউ এইচ সি) প্রবীনদের জন্য তহবিল সংগ্রহ ও প্রকল্প প্রণয়ন  বিষয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। 

বেসরকারি সংস্থা বি ডব্লিউ এইচ সি এর নির্বাহী  পরিচালক ও নেটওয়ার্ক চেয়ারম্যান শরিফ গোলাম মোস্তফা এর সভাপতি অনুষ্ঠিত কর্মশালা সঞ্চালন করেন কান্ট্রি কোঅডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম। বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী  সংঘ ও জরাববিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম শফিকুল ইসলাম কানু। ঢাকা আহসানিয়া মিশনের কোঅডিনেটর আফরোজা বুলবুল, ইয়ুথ পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন( ইপসা)এর সহকারী পরিচালক নাজমুল হায়দার, বি ডাব্লু এইচ সি এর ফিনানসিয়াল অফিসার অচিন্ত্য কুমার মন্ডল, ইপসা রিসার্চ, মনিটরিং এন্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার সামিয়া। 

কর্মশালায় বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রবীণ  ব্যক্তিদের নানাবিধ সমস্যা, সমস্যা মোকাবেলায় করনীয়, তহবিল সংগ্রহ, প্রকল্প  প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। হেল্পএইজ কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর  জাহাঙ্গীর আলম বলেন,  বাংলাদেশ প্রবীণ ব্যক্তিদের সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ। তন্মধ্যে মাত্র ৫৭ লাখ প্রবীণ প্রতিমাসে ৬ শত ৫০ টাকা করে ভাতা পায়। এতে এক বছরে ব্যয় হয় ৪ হাজাট  ৪ শত ৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ  ৩ শত ৭০ মিলিয়ন ডলার। এই ব্যয় বিশ্ব ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের  টাকায় মেটানো হয়। অপরদিকে ইংল্যান্ডে একজন প্রবীণ ২ হাজার পাউন্ড ভাতা পান। বাংলাদেশী টাকায় ৩ লাখ  ২৮ হাজার ৯০০ টাকা।এক পাউন্ড সমান সমান ১৬৪ টাকা ৪৫ পয়সা।সে মোতাবেক বাংলাদেশের একজন একজন প্রবীণ ইংল্যান্ডের প্রায়  পাউন্ড  ভাতা পান।এই স্বল্প ভাতায় কিভাবে একজন প্রবীণ  জীবিকার নির্বাহ করতে পারেন।

তাছাড়া  বাংলাদেশের প্রবীণ  ব্যক্তিরা অবহেলা ও অবজ্ঞার শিকারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সেবা পুষ্টিকর খাদ্য থেকেও বঞ্চিত। এমনকি নিজ ঔজাত সন্তানের কাছে বোঝা স্বরূপ। 

 সরকার প্রবীণ  ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য অনেক আইন প্রণয়ন করেছেন। বাস্তবে এই সকল আইন কাগজ-কলমের সীমাবদ্ধ রয়েছে।এ সকল আইন বাস্তবায়নে  কোন জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাই দেশের প্রবীণ  ব্যক্তিরা সবচেয়ে অবহেলিত ও নিষ্পেষিত। প্রবীণ ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোরালো দাবি জানাতে হবে। সরকার যাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় সার্বজনীন  পেনশন ভাতা চালু করেন। 

 দেশে ক্রমবর্ধমান হারে প্রবীণ  ব্যক্তিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েই চলছে।বর্তমানে  বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৯শতাংশ প্রবীণ।আগামী ২ হাজার ৫০ সালে প্রবীরদের সংখ্যা দাঁড়াবে ২০%। কাজেই এখন থেকে প্রবীনদের জন্য তহবিল গঠন  ও বৃত্তিমূলক কর্মসংস্থান প্রণয়নে রাষ্ট্র, বেসরকারি সংস্থা, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানসহ বীমা,ব্যাংক  দানশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে