রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

জাতীয় শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠণের উদ্যোগ নেয়া হবে- শিক্ষা উপদেষ্টা


প্রকাশ :

গতকাল  (১০ সেপ্টেম্বর )বুধবার বিকেলে বাংলাদেশের জনগণের প্রধান আকাঙ্ক্ষা জাতীয় শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠণের দাবিতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরারের সঙ্গে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমম্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রতিনিধি এশিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ড. আবুল হাসান এম সাদেক, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির সাবেক চেয়ারম্যান কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, সাবেক বিচারপতি ইমদাদুল হক আজাদ, জাতিসংঘের সাবেক আন্তর্জাতিক বিচারক ড. মোঃ শাহজাহান সাজু, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদের সহোদর ডাঃ এ এম নুরুজ্জামান, ড. প্রকৌশলী কর্নেল (অবঃ) আনোয়ার হোসেন, ড. প্রকৌশলী লুৎফর রহমান, এড. জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

বক্তাগণ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমান দুর্নীতি, নানামুখী অনিয়ম, এবং দক্ষতা সংকটে পর্যবসিত পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে টেকসই ও কার্যকর সংস্কার সময়ের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় পর্যায়ে একটি "জাতীয় শিক্ষা সংস্কার কমিশন" গঠন করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পূণর্গঠন ও আধুনিকায়নের রূপরেখা প্রণয়নে নির্মোক্ত প্রস্তাব পেশ করেন। 

১. শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন কাঠামো সংস্কারঃ-

সকল স্তরের শিক্ষকগণের বেতন কাঠামো তাঁদের অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্ঞান বিতরণের দক্ষতার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে হবে।

শিক্ষকতার পেশাকে অধিকতর মর্যাদাপূর্ণ করতে এবং শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে উপযুক্ত প্রণোদনা ও পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

২. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশঃ-

উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ডিনসহ শিক্ষক নিয়োগ/বাছাই কমিটিতে সকল ফ্যাকাল্টির  সিনিয়র গ্রেড-১ দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদগণ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

মানদন্ডঃ- প্রার্থীদের একাডেমিক প্রশংসাপত্র, প্রতিষ্ঠানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষার উন্নতির জন্য একটি প্রদর্শিত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি প্রার্থীদের শিক্ষা প্রদানের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো আচরণ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

৩. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মাদ্রাসা, কলেজ, স্কুল সমূহের প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুপারিশঃ- 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বোর্ড, সমাজের গুণীজন, শিক্ষানুরাগী, গ্রহণযোগ্য অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কর্তৃক উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মানদন্ডঃ- প্রার্থীদের একাডেমিক প্রশংসাপত্র, প্রতিষ্ঠানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষার উন্নতির জন্য একটি প্রদর্শিত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি প্রার্থীদের শিক্ষা প্রদানের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো আচরণ করার মানসিকতা থাকতে হবে। এভাবে যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত ও দায়বদ্ধ শিক্ষা প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

৪. সিনিয়র সচিব/সচিব পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুপারিশঃ-

শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব পদে মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট স্বনামধন্য অধ্যাপকদের ৪ বছর মেয়াদী চুক্তিভিত্তিক পদায়নের প্রস্তাব করা যাচ্ছে।

৫. সকল নিয়োগে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াঃ-

সর্বজনীন সাক্ষাৎকার ও স্টেকহোল্ডার ইনপুটসহ স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

একাডেমিক রেকর্ড, নেতৃত্বের দক্ষতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে মূল্যায়নের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

৬. নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তিঃ-

সকল স্তরের কারিকুলামে নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক।

ধর্মীয় শিক্ষাকে মূল্যবোধ বিকাশের একটি প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক স্তর থেকে বাধ্যতামূলক করা উচিত।

৭. একমুখী ও সুশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাবঃ-

বর্তমানে প্রচলিত ১১ প্রকার শিক্ষা ধারার মধ্যে সমন্বয় এনে একটি মানসম্পন্ন ও নৈতিকতা ভিত্তিক একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত শিক্ষা সংস্কার কমিশনের গঠনের সুপারিশঃ-

এই কমিশন গঠনে নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করছি। যেমনঃ-

স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ । সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত ন্যায়পরায়ণ বিচারপতি । আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিক । ধর্মীয় ও গবেষণায় অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ। সরকারি উচ্চপদে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সৎ পেশাদার কর্মকর্তা। দেশবরেণ্য গবেষক, লেখক, আইনজীবী, ইতিহাসবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজ বিশ্লেষকগণ।

বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে প্রকৃত অর্থে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে, কেবলমাত্র কাঠামোগত সংস্কার নয়; প্রয়োজন নৈতিকতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এজন্য একটি শক্তিশালী ও কার্যকর শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।