রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা কাজের শুভ উদ্বোধনের দাবিতে নীলফামারীতে সমাবেশ ও নদী পথে আলোর মিছিল


প্রকাশ :

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের কাজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধনের দাবিতে নীলফামারীতে বিকেলে  সমাবেশ ও সন্ধ্যায় তিস্তা নদীপথে আলোর মিছিল কর্মসূচি পালিত হয়েছে।শনিনার (৬ সেপ্টম্বর )তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ, ডিমলা- জলঢাকা,  আঞ্চলিক কমিটির আয়োজনে ডালিয়া-দোয়ানি তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন তিস্তা পাড়ে ভারী বৃষ্টি  ও  বৈরি আবাহাওয়া উপপেক্ষা  করে কর্মসূচিতে হাজারো  মানুষ অংশ নেয়।সন্ধ্যায় তিস্তা পাড়ে শত নৌকায় আলোর মশাল প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে কর্মসূচি। । 

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের  কাজ শুরু হবে।তাঁর এই ঘোষণায় তিস্তা পাড়ের কোটি মানুষের প্রাণে  আশার আলো জেগে ওঠেছে। ' 'ঘরপোড়া গরু,সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়'। এজন্যই  আমরা চাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে  তিস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন । পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার যারাই ক্ষমতায় আসবেন তারাই প্রকল্প কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন। ১০ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। তিস্তা প্রকল্পের প্রথম পর্যায় ( ৫ বছর) বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।এর মধ্যে চীন সরকারের কছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।বাকী ২ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা দেশের কোষাগার থেকে দেওয়া হবে।হক্কানী বলেন,প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তি ও ঋণ সহযোগিতার প্রস্তাব চীনা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।  ফাইন্যান্সিয়াল এগ্রিমেন্ট ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা  কবে শেষ  হবে   তা আমরা জানি না। আমাদের দাবি,প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ বরাদ্দকৃত  নিজস্ব  অর্থায়নে শুরু করতে হবে। আগামী মাসের একনেক সভায় এ কাজের অর্থ প্রাপ্তির অনুমোদন  নিশ্চিত করতে  হবে। তিনি আরো বলেন,রংপুর বিভাগের উন্নয়ন বৈষম্যের বিরুদ্ধে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের  দাবিতে রংপুর বিভাগের সব রাজনৈতিক দলের  মধ্যে  ঐক্যমত্য গড়ে  ওঠেছে। বিএনপি,জামাত,এনসিপিসহ  সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ  নেতৃবৃন্দ এ দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। 

স্থানীয় নদী সংগঠক আলমগীর হোসেন ও রশিদুল ইসলাম রশিদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী।সমাবেশে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন,  তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ,কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান,স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, বখতিয়ার হোসেন শিশির,আব্দুর নূর দুলাল, মাহমুদুল আলাম, লালমনিরহাট জেলা কমিটির আহ্বায়ক, অধ্যক্ষ ড.এসএসএম মনওয়ারুল ইসলাম,সমাবেশ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হামিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে  তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন,আমরা  চাতক প্রতিক্ষায় বসে থাকতে চাই না।এর আগে পতিত  সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনার 'স্বপ্নতরী' ঘাটে  ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডুবে যাওয়া  স্বপ্নতরী ঘাটে তুলেছেন।এজন্য বর্তমান সরকারকে অন্তর্গত অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।আর আমরা ডুবতে চাইনা।ডুবতে  চাই না বলেই  অন্ধকারের বিরুদ্ধে সমাবেশ  ও নদীপথে  আলোর মিছিলের ডাক দিয়েছি। ডিমলা-জলঢাকা তিস্তা ডান তীরের আজকের সমাবেশ ও নদীপথে আলোর মিছিলের মশাল  জ্বালাতে হবে ২৩০ কিলোমিটার ব্যাপী তিস্তার দুই তীরের জনপদে। এ কর্মসূচি চলবে  সেপ্টেম্বর অক্টোবর দুই মাস জুড়ে। অব্যাহত রাখতে হবে  গণসংযোগ, হাটসভা,উঠান বৈঠক এবং গ্রাম,ওয়ার্ড,ইউনিয়নে সংগঠন গড়ার কাজ।তিস্তা আন্দোলনের ৬ দফা ছড়িয়ে দিতে হবে তিস্তাপারের প্রতিটি গ্রামে,প্রতিটি ঘরেঘরে।সমাবেশে তরুণ তার্কিক নদী যোদ্ধা স্ট্যান্ডিং কমিটির অন্যতম  সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির বলেন, তিস্তা প্রজেক্টের প্রথম পর্যায়ের কাজ হবে নদী খনন,তীর সংরক্ষণ, দুই তীরের বাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, ফ্লাড বাইপাস,তিস্তার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন শাখা-প্রশাখা,উপনদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন ও জলাধার নির্মাণ।  খননের ফলে উদ্ধারকৃত জমিতে তিস্তা নদী তীরের মানুষদের  অগ্রাধীকার দিয়ে পুনর্বাসন করতে  হবে। আমাদের কথা স্পষ্ট, তিস্তা আন্দোলনের ৬ দফার ভিত্তিতে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন  করতে হবে।ইতোপূর্বে  তিস্তার বুকে এবং তীরে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে হবে।