রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নিয়ে তিন দিনের অনশনে ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, ইউজিসির সভা আহ্বান


প্রকাশ :

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ‘ছাত্র সংসদ’ সংযুক্ত করে নির্বাচনের রোড ম্যাপের দাবীতে টানা তিন দিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট)বিকেল পর্যন্ত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন, অর্থনীতি বিভাগের আতিকুর রহমান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জাহিদ হাসান জয়,ফাইন্যান্স বিভাগের কায়সার আহমেদ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রুম্মানুর ইসলাম রাজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে অসুস্থ্য কায়সার আহমেদকে বাড়িতে নিয়ে গেছে পরিবারের সদস্যরা। অনশনে থাকা ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান, পরিসংখ্যান বিভাগের খোকন ইসলাম এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নয়ন মিয়া অনশনে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকরা তাদের স্যালাইন দেয়াসহ সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রাখছেন। এদিকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কারীদের সাথে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করছেন। 

অনশনে সংহতি প্রকাশ করা শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিন ধরে অনশন করে যাচ্ছে। অথচ ইউজিসি এখন পর্যন্ত বেরোবি আইনে ছাত্র সংসদ সংযুক্ত করতে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বেরোবির ক্ষেত্রে কেন তাদের অবহেলা আমরা জানিনা। যদি কোন ছাত্রের ক্ষতি হয়, তাহলে এর দায় সরকার ও ইউজিসিকে নিতে হবে। 

অনশন কারী আশিকুর রহমান বলেন, টানা তিন দিন ধরে অনশনে থাকার কারণে আমরা সকলেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছি। আমার সহযোদ্ধাদের ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দাবী আদায় নাহওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব। 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ছাত্র সংসদ নিয়ে ইউজিসি মিটিং ডেকেছে। আশাকরছি খুব দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্র সংসদ সংযুক্ত হবে। এটিহলে আমরা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবো। এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা যেন আমাদের সুযোগ দেয়, এটি তাদের প্রতি আহ্বান।

অনশন থেকে সরে দাঁড়ালো তিন শিক্ষার্থীঃ- বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ‘ছাত্র সংসদ’ সংযুক্ত করে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবীতে চলমান আমরণ অনশন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিন শিক্ষার্থী। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার আশ্বাসে সোমবার (১৮ আগস্ট) রাত ১২টায় অনশন ভাঙ্গেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিবলী সাদিক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অর্থনীতি বিভাগের আতিকুর রহমানও আমরণ অনশন থেকে সরে দাঁড়ান। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে সংবাদ সম্মেলন করে তিন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের দাবীতে রবিবার থেকে অনশন শুরু করা হয়েছিল। উপাচার্যের ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে আইন প্রণয়নের কমিটমেন্ট এবং ইউজিসির এই সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি দেখে আশ্বস্ত হয়ে অনশন থেকে সরে দাঁড়ানো হয়েছে। কোন চাপে, কিংবা কারো প্ররোচনায় অনশন থেকে সরে যাওয়া হয়নি। যতদিন পর্যন্তনা ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে ততদিন পর্যন্ত এ দাবী বাস্তবায়নের আন্দোলন থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।  

সভা ডেকেছে ইউজিসি ঃ---ছাত্র সংসদ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সভা ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে ইউজিসি’র সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে জানাযায়, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের খসড়া গঠন তন্ত্রটি চ্যান্সেলর কর্তৃক অনুমোদনে পরীক্ষা ও চুড়ান্তকরে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীম উদ্দিন খান, সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, বেরোবি’র কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ ইলিয়াছ প্রমাণিক, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমান, ইউজিসি’র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান, উপ-সচিব নুরনাহার বেগম শিউলী, সদস্য সচিব ইউজিসি’র সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ আনিসুজ্জামান। আগামী ২১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টায় কমিশনের সভা কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদ যুক্ত করাসহ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৮-২০০৯ সেশন থেকে শুরু করে অদ্যবধি প্রায় ২০ হাজার নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর দেয়া ছাত্রসংসদ ফান্ডে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা জমা পড়েছে। গণঅভ্যূত্থান চলাকালীন শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৯ দফার মধ্যে অন্যতম দাবী ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের। গণঅভ্যূত্থানের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেট সভা করে ক্যাম্পাসে লেজুর বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্র সংসদ যুক্ত করে নির্বাচনের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, উপাচার্য বরাবর স্বারকলিপি প্রদান, লিফলেট বিতরণসহ নানা আন্দোলন কর্মসূচী পালন করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। এরপরও দাবী আদায় না হওয়ায় আমরণ অনশনে বসেছে তারা।