লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্লোবাল সিটিজেনশিপ এডুকেশন (GCED) কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা প্রদানের জন্য মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পরিদর্শন করেছেন GCC, বাংলাদেশ-এর পরিচালক এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (NAEM)-এর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মো. জুলফিকার হায়দার। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন NAEM-এর উপ-পরিচালক মো. রওশন আলম এবং শিক্ষক প্রশিক্ষক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।
পরিদর্শনকালে অতিথিবৃন্দ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ, একটি ছাদ বাগানের উদ্বোধন এবং GCED Collaboration Centre (GCC), KUP School-এর শুভ উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি GCED অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। সংক্ষিপ্ত বিরতি ও নামাজ শেষে অতিথিদের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বদরুল আহাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. জুলফিকার হায়দার বলেন, “গ্লোবাল সিটিজেনশিপ এডুকেশন কেবল একটি শিক্ষা কর্মসূচি নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। আজকের পৃথিবীতে আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের, বিশ্ব নাগরিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেবল নিজের পরিবেশ নয়, পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের কল্যাণেও কাজ করতে হবে; বৈষম্য দূর করতে হবে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগগুলো একে অপরের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা শেখায়। আশা করি, আপনারা সবাই এই কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবেন, যাতে পৃথিবী আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা GCED কর্মসূচি সম্পর্কিত তাদের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশীদুজ্জামান আহমেদ জানান, কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় NAEM এবং UNESCO APCEIU-এর সহযোগিতায় GCED সহযোগিতা কেন্দ্র (GCC)-বাংলাদেশ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্পের শিরোনাম— “পরিবেশ সচেতনতা ও জলবায়ু কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্তিকরণ”।
তিনি জানান, ২ জুলাই ২০২৫ থেকে এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য নানা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রাক-মূল্যায়ন, শিক্ষক কর্মশালা, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, স্লোগান ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, সবুজায়ন ও প্লাস্টিক বর্জ্য বিষয়ে সচেতনতা প্রচার, শিক্ষার্থীদের কমিউনিটি ভ্রমণ, পরিবেশ বিষয়ক রচনা-চিত্রাঙ্কন-একক বক্তৃতা-ফটোগ্রাফি-ভিডিওগ্রাফি প্রতিযোগিতা এবং নেপালের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে “জলবায়ু পরিবর্তন” বিষয়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) বাস্তবায়নে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।