সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লালমনিরহাট জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সভা গত ২৭ জুলাই বিকেলে সাধারণ পাঠাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আমিরুল হায়াত আহমেদ মুকুল। অতিথি ছিলেন সুজন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির উপদেষ্টা গেরিলা লিডার এস. এম. শফিকুল ইসলাম কানু।
সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লাডলার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট চিত্তরঞ্জন রায়, অধ্যক্ষ ড. এ.এস.এম. মনওয়ারুল ইসলাম, প্রভাষক আবু হাসানাত রানা, সহ-সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী রিয়াজুল হক সরকার, স্কুলশিক্ষক নাসরিন আখতার রিনা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম লিটন, কোষাধ্যক্ষ সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাবেক পৌর কমিশনার সুজাতা বেগম, দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক সৈকত ইসলাম, প্রচার সম্পাদক যুব সংগঠক শহিদ ইসলাম, নির্বাহী সদস্য নাট্যকার মাখন লাল দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বুলু, সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সালাম, সহকারী অধ্যাপক ড. আফতাবুজ্জামান, ডা. নাজিরা পারভীন, সমাজসেবী এনামুল হক টিপু, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম রিকো, স্কুলশিক্ষক পরিমল বর্মন, সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় দেশ ও জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য, দুর্বৃত্তায়ন এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট ও তাদের কথিত সহযোগীদের অজুহাতে মিথ্যা হত্যা মামলার ভয় দেখিয়ে সংখ্যালঘু, ব্যবসায়ী এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে নীরব ও বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে সম্পত্তি দখল, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক হত্যা মামলা দায়ের কিংবা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কিছু চাঁদাবাজ রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করে স্বল্প সময়ে কোটিপতি ও অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে।
এ সকল চিহ্নিত দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
লালমনিরহাট সীমান্তে মাদক চোরাচালান, বিশেষ করে ফেনসিডিল চোরাচালান এবং সেবনকারীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলেও সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, জেলার যুব সমাজ, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও ফেনসিডিল সেবনে আসক্ত হয়ে পড়েছে এবং চোরাচালানের সাথেও জড়িত।
বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নির্ধারিত স্থানে মোটরসাইকেল, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহনে করে শিক্ষার্থীরা গিয়ে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে ফেনসিডিল পান করছে। অথচ প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ অবস্থায় বিজিবি, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিকতার নামে কিছু চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতিকারী জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং মিথ্যা হত্যা মামলা বাণিজ্যের সঙ্গেও এরা জড়িত। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাটগ্রাম উপজেলায় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল হক দুলাল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারা দায়েরকৃত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এসব মামলা প্রত্যাহার ও সাংবাদিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।
জেলায় চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও মাদক চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করা হয়। তাই ফেনসিডিল পাচার বন্ধে বিজিবিকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অভিযান জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও মাদক চোরাচালানে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য জেলা বাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিলের জন্য জেলার সচেতন ও সুধীজনদের প্রতিও অনুরোধ জানানো হয়।
কতিপয় চিহ্নিত রাজনৈতিক নেতা ও মামলাজীবী পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নিতে কথিত হত্যা মামলার আসামিদের কাছ থেকে বিকাশ, ব্যাংক ও দলীয় ক্যাডারের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব দুষ্কৃতিকারী, চাঁদাবাজ, মামলাবাজ ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে প্রতি মাসের শেষ বৃহস্পতিবার জেলা কমিটির সভা এবং প্রতিটি উপজেলায় নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।