রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

লালমনিরহাটে পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নিখোঁজ মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ দুইদিন পর উদ্ধার


প্রকাশ :

 লালমনিরহাটে পুলিশের ধাওয়ায় ধরলা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া মাদক ব্যবসায়ী শান্ত রায়ের (২২) মরদেহ দুইদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের পাকার মাথা নামক এলাকায় নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহত শান্ত রায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমণ্ডল গ্রামের বিনদ চন্দ্র বর্মনের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম থেকে মোটরসাইকেলের সিটের নিচে বিশেষভাবে গাঁজা ফিটিং করে লালমনিরহাটে মাদক পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে রোববার (২০ জুলাই) সকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মোগলহাট ইউনিয়নের মেঘারাম গ্রামের ছয়মাতার ঘাট এলাকায় অবস্থান নেয়।

দুপুরের দিকে মোটরসাইকেল যোগে দুই যুবক ওই এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এসময় মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অমল চন্দ্র (৩৫) ও শান্ত রায়। অমল মাটিতে পড়ে গেলে তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করে ডিবি পুলিশ। তিনি কুড়িগ্রামের গোড়কমণ্ডল গ্রামের পুষ্প বিশ্বাসের ছেলে।

তবে তার সঙ্গী শান্ত রায় দৌড়ে গিয়ে পাশের ধরলা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করে নিখোঁজ হয়। পরে পুলিশ মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কৌশলে রাখা চার কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া গাঁজাসহ অমল চন্দ্রকে ডিবি পুলিশ থানায় নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিখোঁজ শান্ত রায়কে উদ্ধারে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান শুরু করে। তবে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি। অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অমল চন্দ্র আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, উদ্ধার হওয়া গাঁজা শান্ত রায়ের। সে এক হাজার টাকার বিনিময়ে গাঁজা বহন করছিল। মোটরসাইকেলটি শান্ত নিজেই চালাচ্ছিল।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট গোয়েন্দা (ডিবি) থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, “ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের আগেই শান্ত পালিয়ে যায়। আমরা সরাসরি তাকে ধাওয়া দেইনি। অনেক যাত্রী নদী পার হয়েছে, সে কেন পালালো বুঝতে পারিনি। তবে আটক অমল চন্দ্রের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, শান্ত তার সঙ্গী ছিল এবং মাদক পাচারের সঙ্গেও জড়িত। শান্ত একজন চার্জশিটভুক্ত মাদক মামলার আসামি।” ওসি আরও জানান, শান্ত নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে এমন তথ্য বিকেলের দিকে জানতে পেরে ডুবুরি দলের সহায়তায় রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।