রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ছবি অবমাননা ও পদদলনের ধারাবাহিকতা


প্রকাশ :

পাকিস্তান আমলের শেষার্ধে পাকিস্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি পদদলিত করে অনেকেই উল্লাস করেছিল। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি পদদলিত ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবিও পদদলিত করে পদদলনকারীরা উল্লাস করেছে। যাদের ছবি পদদলিত করা হয়েছিল, এরা সকলেই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

শিক্ষণীয়: আমার বাল্যবন্ধু প্রয়াত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ (আরডিআরএস), গ্রাম: বাবুর ডাঙ্গা, ইউনিয়ন: মদাতি, উপজেলা: কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট—তার মুখ থেকে শোনা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ভারতের দেরাদুন সামরিক ঘাঁটিতে মুজিব বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সুদৃশ্য হওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীরা ব্রিটিশ ও ভারতীয় জেনারেলদের ছবির পাশে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের ছবি দেখতে পান। সেখানে পাকিস্তানের জেনারেল ইয়াহিয়া খানেরও ছবি ছিল।

প্রশিক্ষণার্থীরা দাবি তোলেন, ছবিগুলো অপসারণ করতে হবে। ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়ে বললেন, “কি বলো? এনারা দু’জন এই সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গৌরব। এই দেরাদুনেই প্রশিক্ষণ নিয়ে আইয়ুব খান ফিল্ড মার্শাল পদবির গৌরব অর্জন করেছিলেন। এই সামরিক ঘাঁটিকে গৌরবময় স্থানে নিয়ে গেছেন। তাদের এই অবদানের জন্য আমরা হৃদয়ে গৌরব অনুভব করি। তোমরা এরূপ অনৈতিক কাজ করতে পারো, কিন্তু আমরা পারি না।”

ভারতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়নি। এমনকি ছবি পদদলিত করে উল্লাসও করা হয়নি।

ভাস্কর্য ভাঙচুর ও ছবি অবমাননার এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা এরূপ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।