রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

বৃষ্টির দেখা নাই, আমন রোপন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক; গতবছরের তুলনায় অর্ধেক রোপন


প্রকাশ :

আষাঢ় মাস শেষ। শ্রাবণেরও চারদিন গত। বৃষ্টির দেখা নাই। ভরা মৌসুমেও বৃষ্টি না হওয়ায় রোপা আমন রোপন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের কৃষকেরা। 

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম- এলাকা ঘুরে দেখা গেছে; এ ধান রোপনের জন্য জমি নির্বাচন ও তৈরি করে বৃষ্টির অপেক্ষায় এখনও রয়েছেন বহু কৃষক। এতে ব্যাহত হচ্ছে এ ধানের চাষাবাদ। কোথাও সেচযন্ত্র দিয়ে ধানের চারা রোপন করা হয়েছে। এতে এ ধানের চাষাবাদে ব্যয় বাড়ছে কৃষকের। ফাঁকা রয়েছে এখনও হাজার হাজার হেক্টর জমি।  

অনাবৃষ্টি আর প্রখর রোদে শুকিয়ে গেছে জমি। আমন রোপনের নির্বাচিত জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। বৃষ্টির অভাবে আমনের চারা রোপনে দেরি হচ্ছে। এতে ফলন কম হওয়ার শঙ্কাও জানিয়েছে কৃষকেরা। 

অপরদিকে বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে আমনের চারা রোপনের উপযুক্ত বয়স/সময়ও অতিক্রান্ত হচ্ছে। সবকিছু মিলে আমন আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। 

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৫৬০ হেক্টর। গতবছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৫৩৫ হেক্টর। গতবছর আমন রোপনের মৌসুমে ১৯ জুলাই পর্যন্ত রোপন করা হয় ৯ হাজার ৬ শ হেক্টর। এ বছর এ সময়ে কৃষকেরা রোপন করেছে মাত্র ৪ হাজার ৫০ হেক্টর। গতবছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। 

জোংড়া ইউনিয়নের তেতুঁলতলা এলাকার কৃষক আকবর আলী (৫০) বলেন, ‘আষাঢ় মাস শেষ হয়েছে। শ্রাবণ শুরু; বৃষ্টির দেখা নাই। এ দুই মাসে প্রচুর বৃষ্টি হয়। সময় পরিবর্তন হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় বৃষ্টি হয়না। বৃষ্টির জন্য এখনও ধান রোপন করতে পরিনি।’   

বুড়িমারী ইউনিয়নের উফারামারা এলাকার কৃষক তফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির অভাবে ধানের চারা রোপনের সময় পার হয়ে যাচ্ছে। এজন্য বিদ্যুৎচালিত মোটর/যন্ত্রের মাধ্যমে পানি সেচ দিয়ে গত কয়েকদিন আগে আমন রোপন করেছি। এবারে আমন আবাদে ব্যয় বাড়বে।’

এ ব্যাপারে পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গাফ্ফার বলেন, ‘আমন রোপন চলছে। বৃষ্টির কারণে রোপন কম। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সমস্যা হবে না। রোপা আমন নির্বিঘ্ন করতে কৃষকদেরকে মাঠ পর্যায়ে আমরা নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছি। এছাড়াও মাটি পরীক্ষা করে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে কৃষকদেরকে বলা হচ্ছে। এতে সার সাশ্রয় হবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন বাড়বে।