সাজু বাসফোরকে সভাপতি ও জয় বাসফোরকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠিত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে জুলাই গণহত্যার বিচার, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষাখাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবিসহ নারী নির্যাতন-ধর্ষণ, হত্যা, সাম্প্রদায়িকতা এবং মব সন্ত্রাস বন্ধের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট রংপুর জেলার ৪র্থ জেলা সম্মেলন ১৯ জুলাই ২০২৫ শনিবার, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শহীদ আবু সাঈদের ছোট বোন সুমি খাতুন। এতে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সাজু বাসফোরের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সদস্য রাজু বাসফোর। বক্তব্য রাখেন শহীদ মানিক মিয়ার মা নুরজাহান বেগম, বাসদ (মার্কসবাদী) রংপুর জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব জয় বাসফোর, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক সাদিয়া সুলতানা, পীরগাছা উপজেলার সংগঠক হাবিবুল বাশার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আজ গভীর সংকটে জর্জরিত। শাসকশ্রেণির চক্রান্তে মানুষ শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মনুষ্যত্ববোধের চরম অবক্ষয় ঘটছে। সমাজে মাদক, জুয়া, নারী নির্যাতন, মিথ্যা বলা, উগ্রতা, অসহিষ্ণুতা এসব বাড়ছে। আওয়ামী সরকার গত ১৫ বছরে একের পর এক গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। মত প্রকাশের অধিকার হরণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, ভোটাধিকার হরণ, গুম-খুনসহ নানা অপকর্ম করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগ সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব কায়েম করে রেখেছিল– যা শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করে দেয়। শুধু আওয়ামী সরকার নয়, স্বাধীনতা পরবর্তী প্রতিটি সরকার ক্রমাগত শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকারকে অস্বীকার করে শিক্ষাকে বেসরকারিকরণ- বাণিজ্যিকীকরণ-সাম্প্রদায়িকীকরণ করেছে। যতদিন যাচ্ছে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে, গত কয়েক বছরের বাজেট লক্ষ্য করলেই তা বোঝা যায়। সম্প্রতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের প্রথম বাজেট এটি। এতে শিক্ষাখাতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মোট বাজেটের মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ। জিডিপি’র হিসেবে যা ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। অথচ ইউনেস্কোর সুপারিশ হলো, জিডিপি’র অন্তত ৬ শতাংশ অথবা জাতীয় বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করতে হবে। আমরা জানি, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা ছাড়া গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন একদিকে যেমন শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে একইসাথে নানা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতাকে রুখে দিতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, দীপ্ত দে, শাকিল, আনাস, রিয়া গোপ সহ অসংখ্য ছাত্র-জনতার শহীদি আত্মদানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। মানুষ আশা করেছিল যে, শিক্ষাখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। গত ১৬ বছরে শিক্ষাখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেকগুলো সংস্কার কমিশন গঠন করলেও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোন কমিশন গঠন করেনি।
বক্তারা আরো বলেন, পাবলিক প্রতিষ্ঠানের অভাবে দিন দিন কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তরবঙ্গসহ প্রান্তিক অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে মিড-ডে মিল পূর্বে চালু থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের কোন আয়োজন নেই। সমাজে দিন দিন ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ছে।
আলোচনা শেষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ১৬ সদস্য বিশিষ্ট রংপুর জেলা কমিটি ঘোষণা করেন।
নব নির্বাচিত কমিটির সদস্যবৃন্দ হলেন, সভাপতি- সাজু বাসফোর, সহ-সভাপতি - রাজু বাসফোর, সাধারণ সম্পাদক - জয় বাসফোর, সাংগঠনিক সম্পাদক- হাবিবুল বাশার, দপ্তর সম্পাদক- রাব্বি হাসান, অর্থ সম্পাদক- পূঁজা রাণী, প্রচার সম্পাদক -শুভ রায়, স্কুল সম্পাদক- বৃষ্টি রানী, পাঠাগার সম্পাদক- সাদিয়া সুলতানা, সদস্য- প্রিয়া রানী, সুরাইয়া আক্তার, রুপা আক্তার, প্রিতম রায়, পালকি রানী, প্রিয়া রানী, মেহেজাবীন আক্তার।
শেষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করে।