বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে একটি জাতীয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এই সমাবেশকে ঘিরে দলটির শীর্ষ নেতারা একে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সমাবেশের আয়োজনকে কেন্দ্র করে এখন দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ে তৎপরতা তুঙ্গে।
দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৫ বছরের রাজনীতিতে জামায়াত কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে রাজনৈতিক সমাবেশ করেনি। যদিও পূর্বে বিএনপির সঙ্গে জোটগতভাবে বিভিন্ন সমাবেশে অংশ নিয়েছে, তবে এবারই প্রথম নিজস্ব উদ্যোগে ও নেতৃত্বে সেখানে সমাবেশ করছে জামায়াত।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এককভাবে জামায়াতে ইসলামী কখনো জনসভা করেনি। এটি হবে আমাদের ইতিহাসের প্রথম সমাবেশ।’
তিনি আরও জানান, এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতকরণ, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন এবং তার পূর্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে জনমত তৈরি করা।
রাজনীতিতে জামায়াতের নতুন কৌশল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন তীব্র মতবিরোধ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই জাতীয় সমাবেশকে জামায়াত নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নেতাদের ভাষ্যমতে, নীরবে একটি বড় জনসমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে জামায়াত রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের শক্তি ও অবস্থান জানান দিতে চায়।
সমাবেশ বাস্তবায়নে পূর্ণ প্রস্তুতি
এই সমাবেশ বাস্তবায়নে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে আহ্বায়ক করে একটি কেন্দ্রীয় প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। ঢাকায় দলীয় এক অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘শহীদের রক্তস্নাত বাংলায় ইসলামের পতাকা উত্তোলন এবং ইসলামি ঐক্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সবার চাওয়া-পাওয়া। এই আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই আমরা সোহরাওয়ার্দীতে জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সমাবেশ হবে আমাদের টার্নিং পয়েন্ট। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’
জামায়াতের ইতিহাসে এই প্রথম
১৯৪১ সালে লাহোরে প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী উপমহাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার কারণে দলটি ১৯৭১ সালে নিষিদ্ধ হয়। পরে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মাধ্যমে তারা আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়।
১৯৮০ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে তাদের প্রথম প্রকাশ্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এরপরও জামায়াত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলীয় সমাবেশ কখনো করেনি।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে পিছিয়ে
গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন দল রাজধানীতে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে। বিএনপি নয়াপল্টনে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করেছে, হেফাজত ও ইসলামী আন্দোলন সোহরাওয়ার্দীতে মহাসমাবেশ করেছে।
অন্যদিকে, জামায়াত এখন পর্যন্ত শুধু কারাবন্দী নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে পুরানা পল্টনে একটি ছোট সমাবেশ করেছিল। তাই দলটি এবার বৃহৎ আকারে রাজধানীতে নিজেদের জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।