রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রংপুরে শহীদ ছমেস উদ্দিন হত্যা মামলায় বেরোবি শিক্ষক মাহমুদুল হকের জামিন, বিতর্কের মুখে ওসির বদলী


প্রকাশ :

রংপুরে শহীদ ছমেস উদ্দিন হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুল হকের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। রবিবার (২২ জুন) বিকেলে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতে শিক্ষক মাহমুদুল হকের জামিনের জন্য আবেদন করেন আইনজীবিরা। শুনানী শেষে ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ মার্জিয়া ইসলাম শিক্ষক মাহমুদুল হকের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে মেট্রোপলিটন হাজীর হাট আমলী আদালতে ওই শিক্ষকের জামিন আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক মোঃ সায়েবুর রহমান শুনানী শেষে আগামী ২৪ জুলাই জামিন আবেদনের নতুন শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনজীবি শামীম আল মামুন।সন্ধা ৬টার দিকে শিক্ষক মাহমুদুলহককে আর স্ত্রী ও শিক্ষার্থীরা রংপুর কেন্দ্রিয় কারাগার থেকে নিয়েযান। 

তিনি বলেন, শিক্ষক মাহমুদুল হককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এই মামলা শহীদ আবুসাঈদের রক্তের সাথে বেইমানী করার শামিল। নিহত ছমেস উদ্দিনের কবরের নামফলকে লেখা রয়েছে তিনি পুলিশের ধাওয়ায় মারা গেছেন। তাহলে তিনি শহীদ কিভাবে হলেন। তার মৃত্যুর দীর্ঘ ১০ মাস পর হাজীরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। সেখানে ৫৪ নম্বর আসামী করাহয় শিক্ষক মাহমুদুল হককে। থানা পুলিশ মামলা রুজু হওয়ার পরপরই তাকে গ্রেফতার করেছে। এ থেকে এটি পরিকল্পিত মামলা বলে বোঝাযায়।

তিনি আরও বলেন, সকালে আমরা শিক্ষক মাহমুদুল হকের জামিনের আবেদন করেছিলাম। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে আগামী ২৪ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। পরে মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করা হলে অসুস্থ্য বিবেচনায় শিক্ষক মাহমুদুল হককে জামিন দেয়া হয়। 

এদিকে দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুল হককে নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে আদালত চত্ত্বরে মানববন্ধনকরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামীম রেজা, মাহফুজুল হক, মনসুর আলীসহ অন্যরা। 

শিক্ষার্থীরা জানান, অভ্যূত্থানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলেন শিক্ষক মাহমুদুল হক। অভ্যূত্থানের ১০ মাস পর থানায় মামলা হলে কোন ধরনের তদন্ত ছাড়াই শিক্ষক মাহমুদুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ ওই মামলার ৫৪ নম্বর আসামী তিনি। এ মামলায় আর অন্য কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। যিনি মারা গেছেন তিনি শহীদ নন। পুলিশের ধাওয়ায় হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তাহলে মিথ্যা একটি মামলায় কেন পুলিশ একজন শিক্ষককে গ্রেফতার করলো এমন প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে। শিক্ষক মাহমুদুল হককে নিঃশর্ত মুক্তি নাদিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা। 

এরপর বিকেলে শিক্ষক মাহমুদুল হকের নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনের উভয় পার্শ্বের গেটে তালা মেরে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিক্ষক মাহমুদুল হকের জামিনের খবরে আন্দোলন থেকে সরে আসে শিক্ষার্থীরা। 

বিতর্কের মুখে ওসি’র বদলী ঃ-মামলা রেকর্ড ও তড়িঘড়ি করে বেরোবি শিক্ষক মাহমুদুল হককে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়া হাজীরহাট মেট্রোপলিটন থানার ওসি আব্দুল আল-মামুন শাহকে বদলী করা হয়েছে। রবিবার (২২ জুন) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মজিদ আলী স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে হাজীরহাট থানার ওসিকে মহানগর ডিবির পরিদর্শক ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক রাজিবুল ইসলামকে হাজিরহাট থানায় ওসির দায়িত্ব দেয়া হয়। গণঅভ্যূত্থানে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের ধাওয়ায় পালিয়ে যাবার সময় হার্ট অ্যাটাকে মুদি দোকানী ছমেছ উদ্দিন মারা যাওয়ার ১০ মাস পর ‘হত্যা মামলা’ গ্রহণ, আসামী গ্রেফতারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। গ্রেফতার শিক্ষকের মুক্তি ও মিথ্যা হত্যা মামলা দায়েরের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তসহ শাস্তির দাবী জানিয়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। 

উল্লেখ্য, গণঅভ্যূত্থানে শহীদ ছমেস উদ্দিন (৬৫) হত্যা মামলায় গত ১৯ জুন বিকেলে নগরীর ধাপ এলাকার নিজবাসা থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ।