রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সুযোগ নেই--সারজিস আলম


প্রকাশ :

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের আবার ক্ষমতায় ফেরার কোনো সুযোগ নেই—এ মন্তব্য করেছেন এনসিপি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, “খুনি হাসিনারও ফিরে আসার সুযোগ নেই। তারা যদি আসে, তবে একমাত্র বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই আসবে।”

সোমবার (২৬ মে) সকাল ১১টায় নীলফামারীর ডোমারে লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, “ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা হাজারেরও বেশি মায়ের বুক খালি করেছেন। এই সকল হত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হওয়া উচিত। যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন দায়িত্ব ছাড়ার চিন্তা না করে।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে অপরাধীর বিচার হবে এবং তরুণদের যে স্বপ্ন ও রক্তের বিনিময়ে সংগ্রাম—সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হবে।”

সারজিস আলম দলীয় ঐক্যের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “আমরা যেন কোনো অযৌক্তিক বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভাজন তৈরি না করি। বর্তমান সরকার সরাসরি কোনো দলের প্রতিনিধি নয়। তারা গণ-আন্দোলনের প্রতিফলন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শক্রমে সরকারে এসেছে।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন ‘দ্রুত দিতে হবে’—এটা কোনো যুক্তিসংগত দাবি নয়। বরং বলা উচিত, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আগে বিচার ও কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।”

মনোনয়ন বাণিজ্য ও অতীতের রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, আগে এমপিরা টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনতেন। তারা দলীয় প্রভাবে নির্বাচিত হয়ে সাধারণ মানুষের কথা ভুলে যেতেন। নির্বাচনের আগে মানুষের হাতে ৫০০/১০০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে ভোট নিতেন, আর পরে ‘সেবার’ নামে হাজার হাজার টাকা জনগণের কাছ থেকে আত্মসাৎ করতেন।”

সারজিস আলম আগামী নির্বাচনে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভালো মানুষকে ভালো বলা, খারাপকে খারাপ বলা—এই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নাহলে আবারও অতীতের মতো দুর্নীতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।”

নারী সমাজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “নারীরা জাতির অর্ধেক। ভালো মানুষের পক্ষে নারী সমাজের দৃঢ় সমর্থন প্রয়োজন।”

প্রশাসনিক দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকারি অফিসে যেকোনো অনিয়ম জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। যত বড় আমলা হোক না কেন, অন্যায় করলে তার বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত।”

তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ এনে বলেন, “দুদক দুর্নীতি দমনের জায়গা হওয়ার কথা থাকলেও, সেটিই দুর্নীতির অন্যতম আখড়া হয়ে উঠেছিল।”

রাজনৈতিক ভাষা ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যে অসংযত ভাষা ও নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু করেছিলেন, এখন দেখি কোনো কোনো দলের সিনিয়র নেতারাও সেই একই ভাষা ব্যবহার করছেন। এটা কাম্য নয়। অতীতে যে ভাষা আপনাদের ওপর ব্যবহৃত হয়েছে, তা যদি আপনারাও ব্যবহার করেন, তাহলে জনগণ আপনাদেরকেও প্রত্যাখ্যান করবে।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি আপনারা সেই পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণ করেন, তাহলে আপনারাও অন্য কারো দাবার গুটি হয়ে উঠবেন। কিন্তু এই নবীন প্রজন্ম আর সেই সংস্কৃতি মেনে নেবে না।”

নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কথা, আপনার ভাষা ঠিক করবে আপনি কতটা সম্মানযোগ্য। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে থাকবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, যোগ্য ব্যক্তির মর্যাদা এবং অন্যায়কারীর তিরস্কার।”