রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রংপুরে কৃষকের উৎপাদিত আলুতে পচন- শুরু আবাদ করে চরম বিপাকে কৃষক


প্রকাশ :

রংপুরে সংরক্ষণের অভাবে পচন ধরে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার মেট্রিক টন আলু। কৃষকরা বলছেন অর্থ খরচ করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত আলু এখন গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।এর প্রতিকার কি? সংরক্ষণাগারের অভাবে কৃষকের এ বছর আলু আবাদের নিজস্ব চাহিদা ও ফলন চাহিদার চেয়ে বেশি  হওয়ায় আলু রিয়ে পড়েছেন বিপাকে। পাশাপাশি নেই দেশের বাইরে পাঠানোর সু-ব্যবস্থা। আবার চাহিদার চেয়ে বেশি আবাদ হওয়ায় আলুর দাম না থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষকরা। আলু আবাদ করে এবার চরম বিপাকে পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের কৃষক।

কৃষকরা বলছেন, আমরা আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। না পারছি ফেলে দিতে, না পারছি সংরক্ষণ করতে। কি করবো বুঝতে পারছি না। সরকার যদি মুখ তুলে তাকাতো তাহলে হয়তো বেচেঁ যেতাম।

রংপুর কৃষি বিভাগ সুত্রে জানাগেছে, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ১ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন।  

সরেজমিনে জানা যায়, এ বছর বাম্পার ফলন হওয়ায় আলু সংরক্ষণ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন রংপুরের কৃষকরা। হিমাগারের স্থান সংকুলান না হওয়ায় কৃষকের বাড়িতেই আলু পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হিমাগারে জায়গা না পাওয়ায় ঘরেই সংরক্ষণ করেছেন অনেকে। ফলে যথাযথ নিয়মে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক। কৃষকের বাড়ির গোয়াল ঘর, বাড়ির উঠান, পুকুর পাড় সর্বত্রই আলুর স্তুপ। আলু দীর্ঘদিন থেকে পড়ে থাকার কারণে পচন ধরে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

কৃষকরা জানান, অর্থ খরচ করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত আলু এখন গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। এর প্রতিকার কি?এমন অবস্থায় কৃষকদের কোনো আশার কথাও শোনাতে না পারলেও বরাবরের মত দায়সারা উত্তর কৃষি বিভাগের। নাম না প্রকাশ করার শর্র্তে কয়েকজন বলেন, আমরা কৃষকদের এবার আলু আবাদে নিরুৎসায়িত করেছিলাম কিন্তু তাদের থামাতে পারি নাই। কারণ গত বছরে আলুতে বেশি লাভ হওয়ায় এবার সকলে আলু চাষে মনোযোগ দিয়েছিলো। তাই সবাই এর ফল এখন ভোগ করছে।

রংপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ১ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আর উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন। সংরক্ষণাগারের অভাবে কৃষকরা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন।