মঙ্গলবাৰ সরেজমিনে গেইয়া দেখা যায়, তিস্তা নদীর চরের অনেক জায়গা এখন পানির নিচে। বাদাম গাছডা একেবারে তলিয়ে গেছে। আগের রাইতে উজান থিকা ঢল আইস্যা, সাথে টানা বৃষ্টি। রাত পোহাইতে না পোহাইতে চরের জমি-ঘাট সব পানির নিচে।
চরের কৃষকরা কইতেছেন, আর ১৫-২০ দিন থাকলে বাদাম উঠত। ফলনও ভাল আছিল। অনেকেই ভাবছিল—এবার বাদাম বেচা টাকা দিয়া ঘরে শান্তি আইবো। কিন্তুক হঠাৎ এই পানিতে সব ভাসি গেল।
জোয়ানসেতরা চরের কৃষক আতিকুর রহমান কইলেন, "তিন একর জমিতে বাদাম লাগাইছি। এক লাখ টাকা খরচ হইছে। আশা আছিল, অন্তত আড়াই লাখ টেকার বাদাম হইবো। এখন তো কিছুই থাকবো না। এই অবস্থা, এখন তুল্লেও লাভ হইবো না, কাঁচা বাদাম পইচা যাইবো।"
থেতরাই, গুনাইগাছ, দলদলিয়া ইউনিয়নের আট-দশটা চরের একই দশা। কেহ কেউ পানির ভিতর থিকা বাদাম তুলবার চেষ্টাত আছেন, আর কেহ চুপচাপ ক্ষেতের পাশে দাঁড়াইয়া থাহেন—নিথর হইয়া।
উপজেলা কৃষি অফিস কইছে, এই মৌসুমে বাদাম চাষ হইছে প্রায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে, তিস্তার চরেই হইছে ২৩০ হেক্টরের বেশি। ফলনও ভাল আছিল, কিন্তুক হঠাৎ পানি বাড়ায় এখন বাদাম পচি যাওয়ার ভয় হইতেছে।
উলিপুর কৃষি অফিসার মো. মোশারফ হোসেন কইলেন, "যতটুকু সম্ভব বাদাম তুলতে কইছি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি দের তালিকা করতেছি। সরকার থিকা যদি কুনো সহায়তা আসে, সেই তালিকা ধরেই দিয়া হইবো।"
এইভাবে এক রাতের পানিতে ভাসি গেল চরের কৃষকদের সারা বছরের পরিশ্রম। শুধু ফসল না, বুকভরা স্বপ্নডাও ডুইবা গেল পানির নিচে।