দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় ছাত্রফ্রন্টের সমাবেশে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছেন, বাংলাদেশের ৮৭% মজলুম জনগণ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জীবন দিতে প্রস্তুত।
নবগঠিত দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় ছাত্রফ্রন্টের সমাবেশের শুভ উদ্বোধন করেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ মুগ্ধের পিতা মীর মোস্তাফিজুর রহমান ও শহীদ জাবিরের পিতা কবির হোসেন ভূঁইয়া।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৎ সাহসী সত্যবাদী নেত্রী আদিনা খানের সভাপতিত্বে সমাবেশের প্রধান বক্তা দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী দুঃখ করে বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে সাক্ষাৎকার না দেয়ার তামাশা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা।
তিনি আগামী এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের চিন্হিত দুর্নীতিবাজ, দুর্বৃত্ত, মাফিয়াদের গ্রেপ্তারপূর্বক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিকট সুশাসন নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচারের সভাপতি অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক, এশিয়া প্যাসিফিক বোর্ড অব ট্রাস্টির সাবেক চেয়ারম্যান কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, জাতিসংঘের সাবেক বিচারক ড. মোঃ শাহজাহান সাজু, কর্নেল (অবঃ) ড. প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মোঃ শামছুদ্দিন, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক এড. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, কবি-লেখক-শিক্ষাগবেষক শামিমরুমি টিটন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র গেরিলা কমান্ডার ড. শফিকুল ইসলাম কানু, নজরুল গবেষক ও কবি এইচ এম সিরাজ, আলী নিয়ামত, কবি কাজী আলম প্রমুখ।
ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সানজিদা সাফরিন শান্তা, এম এ মান্নান, জিসানুল হক খান আলিফ, এম এম সাদ, ফারহানা বুশরা অমি, হাসিব চৌধুরী প্রমুখ।
বক্তাগণ মানব সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য প্রতিপালন, সকল ধর্মের অনুশাসন “দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ” "দেশকে গড়তে হলে,সবার আগে নিজকে গড়ো” “নিজকে শুদ্ধ করি, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি” “দুর্নীতি নিজে করবোনা, কাউকে দুর্নীতি করতে দিবোনা” পরকালীন মুক্তির জন্য দেশের এই ক্রান্তিকালে নিজ ঘর, পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, পরিচিত সকল দুর্নীতিবাজদের চরম ঘৃণা করা, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা প্রতিটি মানুষের ঈমানী দায়িত্ব।
সবার আগে দেশ। মজলুম জনগণের একমাত্র আশা-আকাঙ্ক্ষা দুর্নীতিমুক্ত বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রধান অন্তরায় হচ্ছে মিথ্যা, দ্বিধা-দ্বন্ধ, বিভক্ত-বিভ্রান্ত, অপব্যাখ্যা-অপপ্রচার, পারস্পরিক কাঁদা ছোড়াছুড়ি ও দলীয় কোন্দল, জেদ-অহংকার ও হিংসা-বিদ্বেষ।
বেঈমানী আমাদের ঈমানের নূরকে ম্লান করে দিয়েছে। স্বার্থপরতা মানব জাতির নিকৃষ্টতম অপরাধ।
লোভ, মোহ, স্বার্থ, আত্মপ্রীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মগরিমা, আত্মগৌরব, আত্মঅহংকার প্রভৃতি রোগে যেনো সকল মানুষ আক্রান্ত। সমস্ত শরীরে পচন ধরেছে, যার দুর্গন্ধ গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে।
সংস্কারের বিরোধীগণ নিজ দলের সংস্কারে চরমভাবে পর্যুদস্ত। বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক বিভিন্ন শ্রেণী পেশার দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিকদের বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে বারবার জীবন দিয়ে স্বৈরশাসক পরিবর্তন করার চেয়ে পুরো শাসন ব্যবস্হা সংস্কারের মাধ্যমে এমনভাবে পরিবর্তন করতে হবে, যাতে স্বৈরশাসক আর কখনো তৈরিই হতে না পারে।
মাত্র ১৩% জাতীয় বেঈমান, সুযোগ সন্ধানী, দালাল, চাটুকার, লুটেরা, মাফিয়া-সিন্ডিকেট, অন্ধ দলদাস, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্তদের থেকে দেশ বাঁচাতে ৮৭% মজলুম জনগণকে দুর্নীতিমুক্ত বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়তে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য জরুরি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে চিরদিনের জন্য স্বৈরশাসকমুক্ত নৈতিক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ১১ দফাঃ
১.দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির বিধান;
২.সরকার পদ্ধতি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার;
৩.আইন ও বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন কার্যকর করা;
৪.শিক্ষা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতীয় শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন;
৫.সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার;
৬.বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তকরণ;
৭. সম্পূর্ণ স্বাধীন দুর্নীতি দমন ও প্রবীণ কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন
৮. ভোটার ক্লাবের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রশাসনমুক্ত স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগ পদ্ধতিসহ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও পুনর্গঠন;
৯. স্বাধীন পাবলিক সার্ভিস কমিশন সংস্কার ও পূর্নগঠন;
১০. রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দুর্নীতিমুক্ত করাসহ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে বিশ্বমানের গঠন ও সংস্কার;
১১. গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে মাফিক-সিন্ডিকেটমুক্ত গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ জরুরি।
বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ও ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য ১১ দফা সমর্থন ও দলমত নির্বিশেষে সকল দেশপ্রেমিক সৎ সাহসী সত্যবাদী ছাত্র সমাজকে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় ছাত্রফ্রন্টের সাথে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।