রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

লালমনিরহাটে ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায় বুধবার (১৪ মে) মধ্যরাতে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়কের পাশের বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

রাত ১২টার পর শুরু হওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টি মাত্র ১৫–২০ মিনিট স্থায়ী হলেও তাণ্ডব ছিল ভয়াবহ। দুই উপজেলার অর্ধসহস্রাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি এবং ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

প্রবল শিলাবৃষ্টির ফলে উঠতি বোরো ধান, ভুট্টা, পাট, আম, লিচু, কলাবাগান এবং সবজির ক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। গাছ উপড়ে পড়ে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বন্ধ ছিল লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক ও রেলপথ।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের আয়নারপুল বটতলা এলাকায় একটি বিশাল বটগাছ উপড়ে পড়ে দুটি বাড়ির ওপর। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন, যাদের মধ্যে একজন গুরুতর। আহত সেফালী বেগমকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব অভিযোগ করে বলেন, “সড়কের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ বটগাছটি অপসারণে জেলা পরিষদকে বহুবার জানানো হয়েছিল। কর্ণপাত না করায় গাছটি উপড়ে পড়ে আমার দুটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, স্ত্রীর মাথাও ফেটে গেছে। প্রশাসন এর দায় এড়াতে পারে না।”

কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কাকিনা হাট ও বাজার এলাকায় অনেক দোকানের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে। বৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। বহু মাটির ঘরধসে পরিবারগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ধারদেনা করে ধান আবাদ করেছিলাম। সব শেষ হয়ে গেল। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।”

ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক ও বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেলপথে ৩ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে রেলওয়ে বিভাগের একটি দল গাছ অপসারণ করে চলাচল স্বাভাবিক করে।

নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজারো মানুষ খাবার পানি, মোবাইল চার্জ ও আলো নিয়ে বিপাকে পড়েন। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, লাইন মেরামতের কাজ চললেও স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।

জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ শুরু করেছে। জনপ্রতিনিধি ও ত্রাণ কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

অনেক পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বা প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “কালীগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের তাৎক্ষণিকভাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও চাল দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলেই দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের অনুরোধ উপেক্ষা করার বিষয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”