রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

আদিতমারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ


প্রকাশ :

 লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার এক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতি টাকা আত্তসাতের অভিযোগ উঠেছে।

লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের বুনচুকি স্বতন্ত ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সোমবার (১২ মে) বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই প্রতিষ্ঠানের ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক শাহিনা আক্তার নামের শিক্ষক।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, বনচুকি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরায় ২০১৪ সালের ১লা জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক,জুনিয়র মৌলভী,সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) সহকারী শিক্ষক (সাধারন) ও ক্বারী শিক্ষকসহ ৫টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ০৬/০৯/২০১৪ তারিখে নির্বাচনী বোর্ডের সুপারিশ মোতাবেক ১০/০৯/২০১৪ তারিখে মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শাহিনা আক্তারকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক (ক্বারী) পদে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয় এবং নিয়োগপ্রাপ্তির পর ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তার পদে যোগদানের জন্য সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র প্রদান করেন। সে মোতাবেক ১৬/০৯/২০১৪ সালে অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে নিয়মিতভাবে চাকুরী করে আসে। গত ০৫/০২/২০১৯ সালে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এর অফিস যার স্বারক নং-০৫.৪৭.৫২০০.০০৫.০১.০৬২.১৯.৭৪(৫) তারিখ ১৬/০১/২০১৯ স্বারক মোতাবেক যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কর্মরত শিক্ষকগণের যাবতীয় তথ্য প্রতিষ্ঠান প্রধান মাদরাসা অধিদপ্তর ঢাকায় প্রেরণ করেন। । পরে ইউএনও ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে ০৫/০২/২০১৯ তারিখে মহাপরিচালক মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবরে প্রেরণ করে। তখন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে শাহিনার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা গ্রহন করেন প্রধান শিক্ষক। উক্ত টাকা টাকা প্রতিষ্ঠানে ব্যয় না করে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ আত্নসাৎ করেন বলে অভিযোগে জানা যায়। পরিবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষক শাহিনার নিকট আরও তিন লক্ষ টাকা দাবী করেন এবং দিতে অস্বীকৃতি  জানালে তাকে চাকুরীচ্যুত করার হুমকী প্রদান করেন। পরে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারে যে,মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে শাহিনাকে বাদ দিয়ে যোগ্যতাবিহীন অন্য আরেকজন শিক্ষক নিয়োগ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।


 ভুক্তভোগী শাহিনা খাতুন বলেন, আমার বাবা দিনমজুর চাকরির আশায় সে সময় নানার বাড়ীর জমি বিক্রি করে টাকা এনে আমার বাড়ীতে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে ১ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। পরিবর্তে আরও ৩ লক্ষ টাকা দাবী করে। না দেওয়ায় আমাকে চাকুরীচ্যুতসহ নানা হুমকী প্রদান করে। এক সময় সে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন। প্রধান শিক্ষকের দুর্নীত ও জালিয়াতির অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও তার চাকুরীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  গ্রহন করতে কর্তূপক্ষের নিকট জোর দাবী করেন।

বুনচুকি স্বতন্ত ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিককে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। শাহিনা নামে শিক্ষকের কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা নেওয়া হয়নি। সে নিয়মিত মাদরাসা না আসায় তাকে বাদ নিয়ে অন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ভূঁয়া নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরন করে এখন আমাকে হয়রানী করছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন বলেন,ইতিপুর্বে অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানদের কোন সমস্যা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল তারা কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন অভিযোগ দায়ের করেছে। শাহিনা নামের শিক্ষকের অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।