রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া শাখাওয়াতের শুধু পৈতৃক বসতবাড়ি ছিল সাড়ে ৩‘শ বিঘা জমির ওপর। বর্তমানে এ জমির মাত্র ৭২ শতক জমি টিকে আছে ।বিগত দিন গুলোতে কোনো সরকারই মহিয়সী এই নারীর পৈতৃক ভূমি উদ্ধারে নেয়নি কোনো কর্যকরি পদক্ষেপ। আগামী প্রজন্মের কাছে বেগম রোকেয়ার বিরত্বগাথা স্মৃতি সংরক্ষণে বর্তমান সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিজ্ঞ মহল।জমিদারের প্রথা ভেঙে নারীদের অধিকার বোধ জাগানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার পাশাপাশি নারীদের আত্মমর্যাদা জাগরণের প্রেরণা হয়েছিলেন বেগম রোকেয়া।
রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন এই মহিয়সী নারী। জমিদার পরিবারে জন্ম নেয়া বেগম রোকেয়ার বিশাল পৈতৃক জমি, বাস্তুভিটা সবই ধীরে ধীরে দখল হয়েছে। অবশিষ্ট ৭২ শতকের মধ্যে ৪০ শতকে গড়ে উঠেছে বেগম রোকেয়া মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, ২ শতকে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র এবং ৩০ শতক বসতভিটা হিসেবে সংরক্ষণ করেছে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর।
বেগম রোকেয়া তার নিজের লেখা বইতে উল্লেখ করেছিলেন, তাদের পৈতৃক বাড়িটি শুধু ছিল সাড়ে ৩শ’ বিঘা জমির ওপর। তবে বাস্তবে এখন ৩০ শতক জমিতে সেই বাড়ির কিছু স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে।
বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও রোকেয়া গবেষক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, ‘সরকারের উচিত রোকেয়ার পৈতৃক জমি উদ্ধার করে বেগম রোকেয়া স্টেট গঠন করা হোক।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মোঃ মাহমুদুল হক বলেন,বেগম রোকেয়া নারীজাতির অনুপ্রেরণা।নারীদের মাথা উঁচু করে নিজেদের অধিকার আদায় করতে শিখিয়েছেন।তিনি বেগম রোকেয়ার চর্চাসহ তার বসতভিটা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সরকারের প্রতি।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল জানান, বেগম রোকেয়ার পৈতৃক জমি উদ্ধারে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত,তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ফখরুদ্দিনের নির্দেশে ২০০৮ সালে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।এ বছরের ১৭ মার্চ কেন্দ্রটি অলিখিতভাবে বিকেএমই’র শ্রমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়। শুরু হয় শ্রমিকদের পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ। আর এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন সেনা প্রধান মঈন-ইউ-আহমদ। ফলে প্রকল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে থাকে।বেগম রোকেয়ার মৃত্যু হয় ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর ভারতের কলকাতার সোদপুরে। জন্ম-মৃত্যুর ব্যবধানে কেটে গেছে প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়। এ সময়ের মধ্যে বিলীন হয়েছে জমিদার পিতার বসতভিটা, জায়গা জমি গেছে অন্যের দখলে।স্মৃতি চিহ্ন বলতে রয়েছে তার পৈত্রিক বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ও মূল ফটক। সেটিও অযত্ন আর অবহেলায় দাঁড়িয়ে আছে কয়েক যুগ ধরে।