লালমনিরহাটের তিস্তা সড়ক সেতু-১ এর টোল প্লাজায় হামলা চালিয়ে তিন টোল আদায়কারী কর্মচারীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ক্যাশ বাক্সে থাকা ১৪ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান রাজু (৪০) এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠান রানা কনস্ট্রাকশনের পরিচালক নাজমুল আলম বাদী হয়ে এই নেতা সহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামি করে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর: ৬২)। মামলায় হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৮টার দিকে টোল প্লাজায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত রাজু লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মোস্তফি এলাকার বাসিন্দা।
আহতরা হলেন টোল ম্যানেজার সুরুজ্জামান (৩০), কর্মচারী জুয়েল (২৬) ও মোখলেস (২৭)। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোকাদ্দেম হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে জুয়েল ও সুরুজ্জামানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় টোল প্লাজায় দায়িত্বরত পাঁচজন পুলিশ সদস্য নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এমনকি হামলার পরপরই একটি পক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত নষ্ট করার চেষ্টা চালায়।
ঘটনার বিষয়ে টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর রওশন জানান, এটি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা। লুটপাট হয়েছে কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জানা যাবে।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান রাজু ও তার সঙ্গীরা মোটরসাইকেলযোগে টোল না দিয়ে টোল প্লাজা অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। এসময় কর্মচারীরা মোটরসাইকেল প্রতি ১০ টাকা করে টোল চাইলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। কিছুক্ষণ পর রাজু দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত দলবল নিয়ে এসে তিন কর্মচারীকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং ক্যাশ বাক্সে থাকা অর্থ লুট করে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরনবী বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।