রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

রাজারহাটে চলছে তিস্তা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ কাজ


প্রকাশ :

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর ভঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জোরেশোরে কাজ করছে। ২০ এপ্রিল উপজেলায় তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করার কাজ চলছে।ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের গতিয়াশাম নামক জায়গায় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় অতীতে তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে প্রতিরোধমূলক কাজ করা হতো না। ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়।

ভাঙনপ্রতিরোধমূলক কাজ দেখে নদীর পারের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন বলেন প্রতিবছর নদী ভাঙনের পড়ে জিওব্যাগ ফেলা হয়,এবছর ভাঙনের আগেই জিওব্যাগ প্রস্তুত করা হচ্ছে ‘আশা করি এবছর নদী ভাইঙবার নয়। বাড়ি ঠিক থাকপে।চলতি বছরের ফেব্রয়ারি মাসের ৯ তারিখে রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সেখানে বক্তব্যে বলেছিলেন তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে আমরা কাজ করবো। আগামী সপ্তাহেই টেন্ডার হবে।থ তার প্রতিশ্রুতি কাজের টেন্ডার ঘোষিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে সেই কাজ মার্চ মাসেই শুরু হয়েছে। তিস্তা নদীতে মহাপরিকল্পনা চান তিস্তাপারের মানুষ। ২০১৬ সাল থেকে তিস্তা নদীতে মহাপরিকল্পনা শুরুর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই মহাপরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মহাপরিকল্পনার বিষয়েও আশস্ত করেন তিস্তাপারের মানুষকে।

তিস্তা নদীর উপনদী চাকিরপশার নদী সুরক্ষা কমিটির আহবায়ক খন্দকার আরিফ বলেন ‘নদী সংগঠক তুহিন ওয়াদুদ ভাইসহ আমরা কয়েকজন নদীকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাথে সাক্ষাৎ করে ভাঙনপ্রতিরোধমূলক কাজের জন্য অনুরোধ করি। তিনি আমাদের কথা দিয়েছিলেন, ভাঙনপ্রতিরোধে কার্যকর ভূূমিকা গ্রহণ করবেন। সেই কাজ যে এত দ্রুত শুরু হবে বুঝতে পারিনি। তার প্রতি আমাদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা।থখোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিস্তা নদীর দুই পারে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার নদীর মধ্যে ভাঙনপ্রবণ এলাকা ৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে তীব্রভাঙনপ্রবণ ২০ কিলোমিটার। এই ২০ কিলোমিটারের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বাকি ২৩ কিলোমিটারের কাজ শুরু হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব এ প্রসঙ্গে বলেন আশাকরি আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন ‘বছর তিনেক আগে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর তৎকালীন প্রধান নির্বার্হী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তিস্তার ভাঙন পরিদর্শন করে গেছেন। তিনি জানেন তিস্তা ভাঙনের ভয়াবহতা সম্পর্কে। তাই তিনি ভাঙন প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞতাা জানাই। তবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিজ্ঞানসম্মতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তাপারের স্থায়ী সমাধান জরুরি।থ ২০১৬ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তিস্তা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে না হয়েছে মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন, না হয়েছে ভাঙনরোধ। তিস্তাপারের মানুষ ভাঙনপ্রতিরোধমূলক কাজের কারণে ভাবছে এবছর ভাঙন অনেক কম হবে।#(ছবি সংযুক্ত)