রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ সারাদেশ

পাটগ্রামে তেজপাতা চাষে স্বাবলম্বী কৃষক


প্রকাশ :

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কৃষকরা ধান, গম, ভুট্টার পাশাপাশি মসলা ও ঔষধি জাতীয় ফসল তেজপাতা চাষ করছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় তেজপাতা চাষে তিনগুণ লাভ করছে চাষিরা। এটি একবার রােপন করলে অন্য ফসলের মতাে তেমন আর খরচ করতে হয় না। মাঠ থেকে পাতা কিনেন  ব্যবসায়ীরা। তেজপাতা ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার চৌধুরি অপু (৪৫) ও  আব্দুল জলিল ( ৬৭) জানান, বর্তমান তেজপাতার চাহিদা ভালাে। কম টাকায় বেশি লাভ করা সম্ভব এ ব্যবসায় ।   তেজপাতা বিভিন্ন প্রকার রান্নার কাজে ও ঔষধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও বিদেশে রপ্তানি হয়।তেজপাতা চাষ সফল পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের কৃষক তবিবর রহমান । 

এরই মধ্যে পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের কৃষক তবিবর রহমান করছেন ব্যতিক্রম ফসলের চাষাবাদ। তিনি ৩ একর  জমিতে তেজপাতার বাগান করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। সাথী ফসল হিসেবে লাগিয়েছেন চা গাছ।

এ বিষয়ে বাউরা ইউনিয়নের তেজপাতা চাষী তবিবর রহমান (৬৫) বলেন, তিন একর জমিতে তেজপাতা লাগিয়েছি। তেজপাতা চাষ একবার খরচ করলে তারপর থেকে টাকা আসা শুরু হয়। এখন আর তেমন খরচ নেই। দিন যতই যায় আয় ততােই বৃদ্ধি পায়।,

একই গ্রামের কৃষক আওলাদ হােসন (৩৫) ও চাঁন মিয়া (৬৫) জানান, তেজপাতা আবাদ অন্যান্য ফসলের তুলনায় তিনগুণ লাভ হয়। ভালা পরিচর্যা করলে ছয় থেকে সাত মাস পর এক বিঘা জমির পাতা বিক্রি করে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় করা যায়।,

বাউরা  ব্লোকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজু হােসেন বলেন,  তেজপাতা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় আমরা কৃষকদের চাষাবাদ উদ্বুদ্ধ করতেছি ও বিভিন প্রকার পরামর্শ দিচ্ছি।,

পাটগ্রাম উপজেলা  অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ও বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক কৃষিবিদ হারুন মিয়া বলেন, তেজপাতা চাষের সাফল্য উপজেলার কৃষকদের মধ্যে এনে দিয়েছ নতুন প্রেরণা। সকল ধরনের ফসলের ফলন বৃদ্ধিতে পাটগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরামর্শ ও সহযােগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলের তেজপাতা এলাকার মসল্যার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি  জেলার আর্থ সামাজিক উনয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।,

 এ বিষয় পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গাফ্ফার জানান, তেজপাতা একটি ওষুধি গুণসম্পন মসলা জাতীয় ফসল। তেজপাতা চাষ তেমন কােন খরচ না থাকায় এক বিঘা জমিতে বছরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন তেজপাতা আবাদের দিকে ঝুঁকছে। পাটগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের তেজপাতাসহ বিভিন্ন প্রকার মসল্লা জাতীয় ফসল আবাদ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রোয়জনীয় পরামর্শ প্রদান করছে।,