মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক ই-আজম বীর প্রতীক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধারা কারো নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি। বাংলার দরিদ্র মানুষের সন্তানেরা স্বতঃফূর্ত ভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে জনগণের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি গতকাল রবিবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) অধ্যাদেশ '২৫ সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার হাজার হাজার ভুয়ামুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে কালিমা লেপন করেছে। দলীয় নেতা, কর্মী ও তাদের নিকটজনকে মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভাতা, চাকরি সহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করেছে। স্বৈরাচার আমলে এই সকল ভুয়ামুক্তিযোদ্ধারা নামের সাথে বীরমুক্তিযোদ্ধা লিখে সারা দেশে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জনগণের মাঝে অনীহা দেখা দিয়েছে। ভুয়ামুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের কাঙ্খিত গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে। সভায় অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ খসড়া সংশোধনীর উপর আলোচনা ও মতামত প্রদান করেন ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, সিরাজুল ইসলাম, সাদেক আহমেদ খান, শাহজাহান কবির বীর প্রতীক, মনোয়ারুল ইসলাম, এস এম শফিকুল ইসলাম কানু, মেজর নাসিরুদ্দিন (অব:) আব্দুল্লাহিল সাফি, ক্যাপ্টেন বেগ (অব:), যুদ্ধাহত আব্দুল লতিফ, অনিল রায়, সিরাজুল হক, মনসুর আলী সরকার প্রমুখ।
সভায় মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ গ্রহণ করেন।