রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকান্ডে জড়িত ৭১ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে ১০৯ তম সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কার করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের রায়হান মিয়া নামের একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কারীরা অভিযোগ প্রত্যাহার করলে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বোর্ড তাকে মওকুফ করে দেয়।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৭১ জন সহ মোট ৭২ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এদিকে আবু সাঈদ হত্যা ও জুলাই বিপ্লবে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনায় অপরাধীদের নাম মাত্র শাস্তি প্রত্যাখান করে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারী) বিকেলে ক্যাম্পাসের মিডিয়া চত্তরে এতে বক্তব্য রাখেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আশিকুর রহমান, আহসান হাবীব, রহমত আলীসহ অন্যরা।
বহিষ্কার করা ছাত্ররা হলেনঃ- পমেল বড়ুয়া, শামীম মাহফুজ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, গ্লোরিয়াস (ফজলে রাব্বি), বাবুল, বিধান, তানভীর, আদুল্লাহ আল নোমান খান, রিফাত, ফারহাদ হোসেন এলিট, মোমিনুল, আরিফুজ্জামান ইমন, গাজীউর, শাহিদ হাসান, মামুন। এদের ১৫ জনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এছাড়া সেজান আহমেদ (ওরফে আরিফ), মো. আরাফাত রহমান আবির, আবু সালেহ নাহিদ, ইমরান চৌধুরী আকাশ, কফি আনান মান্নান, মাসুদুল হাসান, উজ্জ্বল মিয়া, হাবিবুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন, শোয়াইবুল (সাল্লু), আব্দুল্লাহ আল রায়হান, বায়েজিদ মোস্তাফী, রাসেল, সিয়াম আল নাহিদ, অমিত, আখতার হোসেন, তানজিল, মুন্না হাসান লিওন, জিহান আলী, মো. সাব্বির হোসেন (রিয়ান), গালিব হাসান, মাহমুদুর রহমান হৃদয়, মো. মোশারফ হোসেন, পিপাস আলী, মোজাম্মেল হক, মৃত্যুঞ্জয় রায়, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, মানিক চন্দ্র সেন, রবীন্দ্র রায়, সিয়াম আরাফাত, মো. সাব্বির আহমেদ, মো. মুসান্না-বিন-আহমেদ, শাহীন ইসলাম। এদের ৩৩ জনকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।মো. হাসানুজ্জামান সৌমিক, সুদিপ্ত সরকার বাঁধন, জুবায়ের মাহমুদ, কোমল দেবনাথ, মো. রিজন মন্ডল, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ফিলিপ রায়, জিহাদ উল্লাহ, এস এম লাবু ইসলাম, জয়ন্ত চন্দ্র রায়, সবুজ কুমার, সবুজ মহস্ত, মোঃ মেহেদী হাসান মিরাজ, জামাল মিয়া, তৌফিক কিবরিয়া, মেজবাহুল সরকার জয়, দেবাশীষ কুমার রায়, আতেফ আসহাব দিল মন্ডল, নাফিউল ইসলাম, তপন চৌধুরী, সাজেদুর রহমান, আমিরুল ইসলাম শুভ, শফিউল আযম (সম্রাট)। এদের ২৩ জনকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
মানববন্ধন সমাবেশে বক্তারা বলেন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আবু সাঈদ হত্যাসহ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পর সেই অপরাধীদের শুধুমাত্র দুই সেমিস্টার বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা এখন প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই নাম মাত্র শাস্তি নিশ্চিত করা অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। অবিলম্বে অপরাধীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিস্কার এবং যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে তাদের সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করার দাবী জানানো হয় মানববন্ধনে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দিবো রক্ত। রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়। বিচার বিচার, বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’ নানা শ্লোগান দিতে থাকেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আশিকুর রহমান বলেন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যারা আবু সাঈদকে হত্যা করেছে, শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমরা চাই দ্রুত অপরাধীদের স্থায়ী বহিস্কারসহ যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করতে হবে। আমাদের দাবী মানা না হলে শিক্ষার্থীরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।
ভিসি বলেন, তথ্য অনুসন্ধান কমিটি ৭২ জন শিক্ষার্থীর তালিকা দিয়েছিল। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বোর্ড ২৩ জনকে এক সেমিস্টার, ৩৩ জনকে দুই সেমিস্টার এবং ১৫ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বাকি ১৫ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।