দীর্ঘ ৫২ বছর জমি ভোগ দখল করে আসলেও সম্প্রতি পজিশন দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন আপন চাচাতো জেঠাতো দুই ভাই শহিদুল ইসলাম ও দুলাল হোসেন । উভয়ের বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বালাপাড়া গ্রামে। শহিদুল ইসলাম মৃত হাতেম আলী ও দুলাল হোসেন মৃত বিলাত আলীর পুত্র।
বিগত ১৯৭৩ সালে হাতেম আলী ও বিলাত আলী উত্তর বালাপাড়া মৌজার ১২০ খতিয়ান ভুক্ত, ২২০ দাগে ৮১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তখন থেকে হাতেম আলী উত্তর অংশে এবং বিলাত আলী দক্ষিণ অংশে ভোগ দখল করে আসেন। পরবর্তীতে বি.আর. এস.রেকর্ডে তাদের পজেশন অনুযায়ী বর্তমান হাল খতিয়ান ১২৫১, দাগ ৬৯১ মতে হাতেম আলী ৪১ শতাংশ এবং বিলাত আলী ৪০ শতাংশ জমি কবলা ও রেকর্ড সূত্রে মালিকানা পায়।
পরবর্তীতে বিগত ২০০৯ সালে বিলাত আলী তার ৭ সন্তানের মধ্যে ২ সন্তান বেলাল হোসেন ও দুলাল হোসনকে দালিলিক ও রেকর্ড মূলে প্রাপ্ত ৪০ শতাংশ জমি দিক উল্লেখ করে দলীলমূলে হস্তান্তর করেন। দলীলের চৌহদ্দিতে উল্লেখ করেন তার বড় ভাই হাতেম আলী উত্তরে, আব্দুল গণি দক্ষিণে, কাশেম আলী পূর্বে এবং আজাহার আলী পশ্চিমে দখল অবস্থান রয়েছে।
অপর দিকে, ২০১১ সালে অপর ভাই হাতেম আলী তার ৫ সন্তানের মধ্যে ২ সন্তান শহিদুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামকে ১৪ শতাংশ জমি প্রদান করেন। যার চৌহদ্দির বর্ণনায় উল্লখ করা আছে, উত্তরে পাকা রাস্তা, দক্ষিণে বিলাত আলী, পূর্বে কাঁচা রাস্তা,ও পশ্চিমে দাতা নিজের অবস্থান। সে দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে দুলাল মিযার স্বাক্ষর রয়েছে।
২০০৩ সালে হাতেম আলী ৭শতাংশ জমি আব্দুল হাই নামের ব্যক্তি ক্রয় করে নিয়ে পরবর্তীতে তিনি সেই ৭ শতাংশ জমি দুলাল মিয়ার স্ত্রী নাসিমার কাছে বিক্রয় করেন। যাহার চৌহদ্দিতে উল্লেখ করেন উত্তর দিকে পাকা রাস্তা, দক্ষিণ দিকে,দুলাল মিয়া, পুর্বদিকে হবিবর (হাতেম আলীর বড় ছেলে), পশ্চিম দিকে আজাহার আলী।
২০১৮ সালে বেলাল হোসেন তার পিতা বিলাত আলীর নিকট হতে প্রাপ্ত ২০ শতাংশ জমি হতে ৫ শতাংশ তার স্ত্রী আসমা বেগম পুত্র ও আসাদুল ইসলামকে প্রদান করেন। যাহাতে চৌহদ্দি উল্লেখ করেন উত্তর দিকে শহিদুল (হাতেম আলীর ছেলে), দক্ষিণ দিকে সোবাহান,পূর্ব দিকে- কাঁচা রাস্তা ও কবর স্থান, পশ্চিম দিকে বেলাল হোসেন নিজ।
মুল জমিদাতা হাতেম আলী ও বিলাত আলীর মৃত্যুর পর তাদের ছেলেরা ভোগ দখলের ৫২ বৎসর পরে পূনরায় নতুন করে বন্টনের জন্য উক্ত জমির পজেশন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ, জমির পজেশন কে কেন্দ্র করে আপন চাচাতো ভাই দুলাল হোসেন জেঠাতো ভাই শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অজুহাতে একাধিক মামলা করেছেন।
জমির পজেশন কে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের অংশিজনদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া বিবাদ ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে । ফলে,সর্বশান্ত হচ্ছেন উভয় পরিবার।
এ বিষয়ে প্রতিবেশী আব্দুল হাকিম,আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল আলীম সহ অনেকে জানান, আমরা তাদের দলিলপত্র দেখি নাই। কিন্তু বিগত ৫২ বৎসর থেকে হাতেম আলী উত্তর দিকে ও বিলাত আলী দক্ষিণ দিকে এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের ছেলেরা শহিদুল উত্তর পাশে ও দুলাল দক্ষিণ পাশে ভোগ দখল করে আসছে।
উক্ত জমির পজেশন ও মামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম ও দুলাল হোসেন বলেন,জমির বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালত যা রায় দিবে আমরা তা মেনে নিব। শহিদুল ইসলাম আরো বলেন আমি মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে বাঁচতে চাই।